জাতিসংঘের প্রতিবেদন

হরমুজ খুললেও দ্রুতই কমবে না বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের দাম

সুপার মার্কেটের তাকে পছন্দের খাবার মিলবে তো? দাম কি আরো বাড়বে? নাকি পণ্যের মান খারাপ হবে? বিশ্বজুড়ে সাধারণ ক্রেতাদের মনে এখন শুধুই এমন হাজারো প্রশ্ন।

তবে আসল ধাক্কাটা এখনো আসা বাকি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি কোনোভাবে ইরান যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিটি করেও ফেলেন, তাও পরিস্থিতি সহজে বদলাবে না বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। কারণ বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার মূল জায়গাগুলো এরই মধ্যে ভেঙে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব গিয়ে পড়ছে ফসলের আগামী মৌসুমের ওপর। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ সংকটের আসল রূপ ছয় মাসের মধ্যে দেখা যাবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষে যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বজুড়ে ডিজেলের দাম দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে চাষাবাদের খরচ এখন আকাশছোঁয়া। এর ওপর রয়েছে সারের তীব্র সংকট। পর্যাপ্ত সার না থাকায় আগামী মৌসুমে ফলন অনেক কম হবে, এমনকি অনেক জায়গায় চাষাবাদই করা যাবে না।

এফএও প্রধান অর্থনীতিবিদ মাক্সিমো তরেরো বলেন, ‘আপাতত আমাদের কাছে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আছে। আসল সংকট তৈরি হবে আগামী মৌসুমে। আফ্রিকার ফসলের মাঠ থেকে শুরু করে আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলসহ সবখানেই একই সমস্যা।’

তরেরো আরো বলেন, ‘আগামীকালই যদি পরিস্থিতির উন্নতি হয় এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া হয়, তাও খাদ্যের দাম কমবে না। কারণ সরবরাহ ব্যবস্থ এরই মধ্যে ভেঙে পড়েছে। তবে সঠিক পদক্ষেপ নিলে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি বড় বিপর্যয় হয়তো এড়ানো যেতে পারে। আর যদি হরমুজ প্রণালি না খোলে, তবে ২০২৭ সালের শেষভাগে বিশ্বের মোট উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।’

এফএওর প্রতিবেদন বলছে, হরমুজ সংকটের আসল রূপ দেখা যাবে ছয় মাসের মধ্যে।

স্পেনে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে সংস্থার মহাপরিচালক চ্যু দংইউ সতর্ক করে বলেন, ‘‌আমরা এখন কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, তার ওপরই নির্ভর করছে ধাক্কা সামলানো যাবে নাকি ২০২৬ ও ২০২৭ সালে বিশ্ব এক গভীর খাদ্য সংকটে পড়বে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার কারণেই মূলত বিশ্ব অর্থনীতিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।’

চ্যু দংইউর মতে, এটি কেবল একটি রাজনৈতিক সংকট নয়, বরং পুরো বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থার ওপর একটি বড় আঘাত। বর্তমানে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, জ্বালানি, প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও সার তৈরির কাঁচামালের সরবরাহ প্রায় বন্ধ। বড় কোম্পানিগুলো যেভাবে কম খরচে দ্রুত পণ্য পাওয়ার বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিল, তা এখন ভেঙে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প ব্যবস্থা করতে গিয়ে খরচ বহু গুণ বেড়ে যাচ্ছে।

জাতিসংঘের সংস্থাটি বলছে, যেসব দেশ আমদানির ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের খরচ এখন লাগামহীনভাবে বাড়ছে। অন্যদিকে তীব্র মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের আয় কমে যাচ্ছে এবং তারা ক্রয় ক্ষমতা হারাচ্ছে। এ সংকটের বাইরে নয় অস্ট্রেলিয়া কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশগুলোও।

আরও