ইউরোপের ইস্পাত রফতানি হ্রাস পেয়েছে ২০ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক এ পতনের অন্যতম কারণ।

আন্তর্জাতিক বাজারে সংকটে পড়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইস্পাত শিল্প। উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, যুক্তরাষ্ট্রের চড়া শুল্কারোপ এবং এশিয়া থেকে কম দামে আসা ইস্পাতের কারণে চলতি বছরের প্রথমার্ধে ইইউর ইস্পাত রফতানি প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে ইউরোপে ইস্পাত উৎপাদনও ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে।

ইউরোপীয় ইস্পাত শিল্পের সংগঠন ইউরোপিয়ান স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (ইউরোফার) তথ্যের ভিত্তিতে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ইউরোপীয় ইস্পাতের চালান গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯ শতাংশ কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক এ পতনের অন্যতম কারণ। তুরস্ক, ভারত ও চীনেও ইইউর ইস্পাত রফতানি কমেছে অন্তত ১৮ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে ইইউর ইস্পাত রফতানি কমেছে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।

ইউরোপের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন পরিস্থিতিও দুর্বল। ২০২৫ সালে ইইউতে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন ৩ শতাংশ কমে প্রায় ১২ কোটি ৬০ লাখ টনে নেমে যায়। চলতি বছরের শুরুর দিকেও উৎপাদনের এ নিম্নমুখী ধারা বজায় ছিল। তবে মে মাসে তা কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা গেছে।

ইস্পাত উৎপাদকদের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানির বাড়তি খরচ। অন্যান্য অনেক অঞ্চলের তুলনায় ইউরোপে উৎপাদন ব্যয় আগে থেকেই বেশি। এর মধ্যে চলতি বছর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে ইউরোপীয় বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ১৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এতে ইস্পাত উৎপাদনের খরচ আরো বেড়েছে।

পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অতিরিক্ত উৎপাদনক্ষমতাও ইউরোপীয় শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ইউরোপীয় কমিশনের হিসাবে, বৈশ্বিক ইস্পাত খাতে উদ্বৃত্ত উৎপাদনক্ষমতা ৬২ কোটি টন ছাড়িয়েছে। এবং তা বেড়ে ৭২ কোটি ১০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। এটি ইইউর বার্ষিক ইস্পাত ব্যবহারের পাঁচ গুণেরও বেশি। অতিরিক্ত উৎপাদনের একতি বড় অংশ আসছে এশিয়া, বিশেষ করে চীন থেকে। চীনা ইস্পাতের ওপর বিভিন্ন দেশের বিধিনিষেধের কারণে সস্তা পণ্য অন্য বাজারে চলে যাচ্ছে। ফলে বিদেশের বাজারেও ইউরোপীয় উৎপাদকদের প্রতিযোগিতা বাড়ছে। বিশেষ করে গাড়ি ও যন্ত্রপাতি তৈরির মতো খাতগুলো বিপাকে পড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় বাজার সুরক্ষায় গত ১ জুলাই থেকে নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে ইইউ। বছরে ১ কোটি ৮৩ লাখ টন পর্যন্ত ইস্পাত শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা যাবে। এর বেশি আমদানিতে ৫০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। এছাড়া কার্বন নিঃসরণের ব্যয় সমন্বয়ে সিবিএএম ব্যবস্থাও কার্যকর রয়েছে।

দুই বছরের মন্দার পর চলতি বছর ইউরোপে ইস্পাত উৎপাদন ১ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে আশা করছে ইউরোফার। তবে এ ঘুরে দাঁড়ানোর ভিত্তি বেশ দুর্বল। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন হওয়ায় শিল্পটির ঘুরে দাঁড়ানোর পথে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

আরও