ইউরোপীয় কমিশনের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, গত জুলাইয়ে মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৯০ লাখ ১০ হাজার টন গম রফতানি করেছে জোটভুক্ত দেশগুলো। গত সপ্তাহে এ রফতানির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৮৫ লাখ ৭০ হাজার টন। মূলত বিশ্ববাজারে গমের ব্যাপক চাহিদার কারণে ইউরোপের দেশগুলোর রফতানি বাণিজ্যে এ ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গমের শীর্ষ রফতানিকারক হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে রোমানিয়া। দেশটি এখন পর্যন্ত ৬৩ লাখ ৩০ হাজার টন গম বিদেশে পাঠিয়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স। দেশটি এ সময় মোট ৪৮ লাখ ৯০ হাজার টন গম রফতানি করেছে। এছাড়া পোল্যান্ড ২৫ লাখ ৪০ হাজার টন, লিথুয়ানিয়া ১৮ লাখ ১০ হাজার টন ও জার্মানি ১৬ লাখ ২০ হাজার টন গম রফতানি করেছে। এ দেশগুলোই বর্তমানে ইউরোপের গমের বাজারের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
গমের পাশাপাশি বার্লি বা যব রফতানিতেও ইইউ দেশগুলো অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে এখন পর্যন্ত বার্লি রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮ লাখ ৭০ হাজার টন। গত ২০২৪-২৫ বিপণন বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি প্রায় ৮৪ শতাংশ বেশি। গত সপ্তাহে ইইউর বার্লি রফতানির পরিমাণ ছিল ৭৮ লাখ ১০ হাজার টন, যা এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৬০ হাজার টন বেড়েছে।
তবে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। তাদের মতে, ২০২৪ সালের শুরু থেকে ফ্রান্সের রফতানিসংক্রান্ত কিছু তথ্য অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। একইভাবে বুলগেরিয়া, আয়ারল্যান্ড ও গ্রিসের ক্ষেত্রেও তথ্যের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া রোমানিয়ার ডুরুম জাতের গমের রফতানির হিসাবে কিছু ত্রুটি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কমিশনের মতে, অসম্পূর্ণ তথ্যগুলো পুরোপুরি পাওয়া গেলে রফতানির প্রকৃত পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। এসব ছোটখাটো অসংগতি সত্ত্বেও সামগ্রিকভাবে ইউরোপের শস্য রফতানি খাত একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। মূলত কৃষি খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক চাহিদা অনুকূলে থাকায় রফতানির এ ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।