তবে এ প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের পণ্য রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে ভারতের পণ্য রফতানি প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়ে ৪৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। গত শুক্রবার ভারতের বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল এ তথ্য জানান। খবর দ্য হিন্দু।
বাণিজ্য সচিব জানান, বিশ্ববাজারে বিভিন্ন পণ্যের সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধি ও ভারতীয় রফতানিকারকদের নতুন নতুন বাজারে পণ্য পাঠানোর চেষ্টার কারণে এ সাফল্য মিলেছে। একই সময় পণ্য ও সেবা খাত মিলিয়ে ভারতের সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি ৩০ শতাংশ কমে ৭৮০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।
রাজেশ আগরওয়াল বলেন, ‘রফতানি আয়ের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে পণ্যমূল্যের একটি ভূমিকা থাকতে পারে, কারণ বর্তমানে অনেক জিনিসের দাম বাড়ছে। তবে এর কৃতিত্ব আমাদের শিল্প খাতেরও প্রাপ্য। খাতটি বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও সরবরাহ চেইন বা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখতে পেরেছে এবং নতুন বাজারে রফতানি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।’
তিনি জানান, ২০২৬ সালের এপ্রিলে এমন কিছু দেশে ভারতের রফতানি বেড়েছে, যেখানে অতীতে এত উচ্চ প্রবৃদ্ধি দেখা যায়নি। উদাহরণ হিসেবে তিনি তানজানিয়ার কথা উল্লেখ করেন।
তানজানিয়ায় গত মাসে ভারতের পণ্য রফতানি ১৫৮ শতাংশ বেড়ে ১২০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। তানজানিয়ার পাশাপাশি ভারতের জন্য ঐতিহাসিকভাবে ছোট রফতানি গন্তব্য হিসেবে পরিচিত আরো কয়েকটি দেশেও রফতানি বেশ শক্তিশালী হয়েছে। এর মধ্যে শ্রীলংকায় ২১৫ শতাংশ, সিঙ্গাপুরে ১৭৯ শতাংশ, বাংলাদেশে ৬৪ শতাংশ এবং ভিয়েতনামে ৫৩ শতাংশ রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন বাজারে প্রবৃদ্ধি হলেও পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকট ওই অঞ্চলে ভারতের রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
রাজেশ আগরওয়াল জানান, গত মার্চে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোয় ভারতের রফতানি বেশ কমে গিয়েছিল এবং এপ্রিলেও সেই ধারা বজায় ছিল।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিলে পশ্চিম এশিয়ায় ভারতের রফতানি ছিল ৫৭৮ কোটি ডলার। ২০২৬ সালের এপ্রিলে তা কমে হয়েছে ৪১৬ কোটি ডলার। একইভাবে ওই অঞ্চল থেকে ভারতের পণ্য আমদানিও ৩১ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। এদিকে গত বছরের এপ্রিলে আমদানি ছিল ১ হাজার ৫৩০ কোটি ডলার, যা এবার কমে ১ হাজার ৫০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। ভারতের অন্যতম প্রধান রফতানি গন্তব্য সংযুক্ত আরব আমিরাতেও (ইউএই) ২০২৬ সালের এপ্রিলে রফতানি ৩৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রায় ২২০ কোটি ডলার হয়েছে। অন্যদিকে একই সময় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রফতানি ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৮৫০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
২০২৬ সালের এপ্রিলে ভারতের পণ্য রফতানির বিপরীতে আমদানি হয়েছে ৭ হাজার ১৯ কোটি ডলারের, যা গত বছরের এপ্রিলের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। ফলে ২০২৬ সালের এপ্রিলে ভারতের শুধু পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৪০ কোটি ডলারে, যা গত বছরের এপ্রিলে ছিল ২ হাজার ৭১০ কোটি ডলার।