এ কারণে সিকিউরিটিজ আইনানুসারে কোম্পানিটির শেয়ার বিদ্যমান ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমন করা হয়েছে। গতকাল থেকেই এটি কার্যকর হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ২০২৪ সালের ২০ মে তারিখের নির্দেশনা অনুসারে, তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের তুলনায় এর পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ বেশি হলে সেই কোম্পানির শেয়ারকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমনের বিধান রয়েছে। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে সিঙ্গার বাংলাদেশের পুঞ্জীভূত লোকসান দাঁড়িয়েছে ১৫০ কোটি ৪ লাখ ২৬ হাজার ৮৫৫ টাকায়, যেখানে এ সময়ে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ছিল ৯৯ কোটি ৭০ লাখ ২৮ হাজার ৩৮০ টাকা। এ কারণে গতকাল দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির শেয়ার ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমন করা হয়েছে। ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরের কারণে এখন থেকে কোম্পানিটির শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে মার্জিন ঋণ সুবিধা পাবেন না বিনিয়োগকারীরা।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি সিঙ্গার বাংলাদেশের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির নিট লোকসান হয়েছে ২২৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। যেখানে আগের হিসাব বছরে নিট লোকসান ছিল ৪৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২২ টাকা ৫৬ পয়সা, এর আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ৯১ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৬৯ পয়সায়।
২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে সিঙ্গার বাংলাদেশের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪ টাকা ৯১ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৫ টাকা ২৪ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ৮১ পয়সায়।
২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে সিঙ্গার বাংলাদেশের ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ২৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৭৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৪ টাকা ৩ পয়সায়।
২০২২ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৭৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ২০ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ২৯ টাকা ৯৭ পয়সায়।
১৯৮৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিঙ্গার বাংলাদেশের অনুমোদিত মূলধন ২৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৯৯ কোটি ৭০ লাখ ২৮ হাজার ৩৮০ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৯ কোটি ৯৭ লাখ ২ হাজার ৮৩৮। এর ৫৭ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৯ দশমিক ৪৪ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
গতকাল ডিএসইতে সিঙ্গার বাংলাদেশের শেয়ার সর্বশেষ ৭৭ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ৭২ টাকা থেকে ১২৫ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।