লোডশেডিংয়ে নির্ভরতা তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ বেসরকারি চার প্লান্টে

আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা মোকাবেলায় তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবহার বাড়বে।

এক্ষেত্রে বেসরকারি সামিট গ্রুপের চারটি প্লান্ট বিদ্যুৎ সরবরাহে কার্যকর ভূমিকার রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অন্তত ৪৪ হাজার টন ফার্নেস অয়েলের মজুদ রয়েছে; যা দিয়ে দেড় মাস বিপিডিবির চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়তে পারে এমন শঙ্কা থেকে এ প্লান্টগুলোর জন্য আগেই জ্বালানির সংস্থান করে রেখেছে সামিট পাওয়ার লিমিটেড।

বিপিডিবির কাছে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর বকেয়া ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ অর্থ না পেলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারায় অক্ষমতার বিষয়টি বেশ কয়েকবার সরকারকে জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন (বিপপা)। এমন পরিস্থিতিতে সামিটের কেন্দ্রগুলোয় বিপুল পরিমাণ ফার্নেস অয়েল মজুদের বিষয়টি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনে কিছুটা আশা জাগিয়েছে বলে জানান বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্টরা।

সামিট পাওয়ার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির চারটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অন্তত ৩০-৪৫ দিন বিদ্যুৎ উৎপাদন করার মতো জ্বালানি মজুদ রয়েছে। এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে ৬৪৫ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো হলো সামিট গাজীপুর-২ পাওয়ার লিমিটেডের ৩০০ মেগাওয়াট, এইস অ্যালায়েন্স পাওয়ার লিমিটেডের ১৫৯, সামিট বরিশাল পাওয়ার লিমিটেডের ১১০ এবং সামিট নারায়ণগঞ্জ লিমিটেডের ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

সামিট পাওয়ারের কর্মকর্তারা বলছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা শুরুর আগেই বিপুল পরিমাণ এ জ্বালানি সংগ্রহ করা হয়। ফার্নেস অয়েলের বাজার অস্থির হওয়ার আগে এসব জ্বালানি আমদানি করায় বিপিডিবি মূলত আগের জ্বালানি দামেই বিদ্যুৎ নিতে পারবে। এতে বিপিডিবির বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় সাশ্রয় হবে।

এ প্রসঙ্গে সামিট পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে গ্রীষ্ম মৌসুমে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুতের চাহিদা তৈরি হবে, এমন পরিকল্পনা থেকে সামিট পাওয়ার বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পণ্য আমদানি করেছে। যাতে বিপিডিবির চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো ঘাটতি তৈরি না হয়। বর্তমানে ফার্নেস অয়েলচালিত সামিটের চার বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৪৪ হাজার টন জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। কেন্দ্রগুলো থেকে বিপিডিবি একাধারে অন্তত এক-দেড় মাস বিদ্যুৎ নিতে পারবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গালফ অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশে এসব জ্বালানি তেল আমদানি করে সামিট। আগের মূল্যে আমদানি করায় বিপিডিবি সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ নিতে পারবে। এতে অন্তত ২৩ মিলিয়ন ডলার জ্বালানি ব্যয় সাশ্রয় হবে সরকারের।’

বিপিডিবির কাছে বিপুল বকেয়া সত্ত্বেও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সামিটের কেন্দ্রগুলো থেকে যাতে ভোগান্তি পোহাতে না হয়, সেজন্য অগ্রিম এ জ্বালানি মজুদ করা হয়েছে বলে দাবি করেন সামিট পাওয়ারের এমডি।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে লোড হওয়া কার্গোটির প্রতি টন ফার্নেস অয়েলের দাম পড়ে ৪৪৯ ডলার ৪৭ সেন্ট। অন্যদিকে, ৯ মার্চ এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটসের রেট অনুযায়ী, বর্তমানে তা ৯৫০ ডলার ছাড়িয়েছে। যদিও এখন দাম কিছুটা কমে প্রায় ৯০০ ডলারের কাছাকাছিতে ওঠানামা করছে।

সামিট পাওয়ার দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিন ধরে সরকারের সঙ্গে কাজ করছে। বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি বিদ্যুৎ উদ্যোক্তা হিসেবে গ্রুপটি ১৯৯৭ সালে যাত্রা করে। বর্তমানে সামিট গ্রুপের আওতায় ১১টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। গ্যাস ও তেলভিত্তিক এসব কেন্দ্রের মোট সক্ষমতা দুই হাজার মেগাওয়াটের ওপরে। দেশে মোট বেসরকারি বিদ্যুৎ সক্ষমতার ১৮ শতাংশ হিস্যা সামিটের, যা মোট বিদ্যুতের স্থাপিত সক্ষমতার ৭ শতাংশের বেশি।

সামিট গ্রুপ দেশের বিদ্যুৎ খাতের পাশাপাশি জ্বালানি খাতে এলএনজি সরবরাহেও নিয়োজিত রয়েছে। বর্তমানে মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল দিয়ে এলএনজি সরবরাহ নিচ্ছে পেট্রোবাংলা। পাশাপাশি সামিটের টেলিকমিউনিকেশন ও বন্দর অবকাঠামোতেও বড় বিনিয়োগ রয়েছে।

আরও