তালিকাভুক্ত হওয়ার আগেই প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারের একটি সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারের ইতিহাসে বৃহত্তম প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও ছাড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। খবর বিবিসি।
আইপিও-সংক্রান্ত এক নথিতে স্পেসএক্স জানায়, বাজারে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ১৩৫ ডলার হতে পারে। এ দাম অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের মোট মূল্যায়ন দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি বা ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ডলারে। চলতি বছরের শুরুর দিকেও স্পেসএক্সের মূল্যায়ন ছিল ১ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন ডলার।
তবে এ প্রস্তাবিত দামেই শেয়ার বিক্রি হবে কিনা তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। চূড়ান্ত দাম কত হবে, তা শেষ পর্যন্ত ক্রেতারাই নির্ধারণ করবেন। বাজার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে শেয়ারদর বাড়তে পারে বা কমতেও পারে।
শেয়ারবাজারে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে সম্ভাব্য দাম প্রকাশ করাটা খুব একটা সাধারণ ঘটনা নয়। সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠান বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার ঠিক আগের দিন চূড়ান্ত শেয়ারদর ঘোষণা করে।
স্পেসএক্স জানায়, ১২ জুন মার্কিন শেয়ারবাজার নাসডাকে শেয়ার লেনদেন শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। স্পেসএক্স মূলত মহাকাশ যান ও রকেট তৈরি করে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা এক্সএআই ও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকেরও মালিক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইপিওর মাধ্যমে স্পেসএক্স বাজার থেকে ৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়েছে। এটি সফল হলে আইপিওর ইতিহাসে একটি নতুন বিশ্ব রেকর্ড তৈরি হবে। এর আগে ২০১৯ সালে তেলের বাজারে জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকো ২ হাজার ৫৬০ কোটি ডলার সংগ্রহ করে রেকর্ড গড়ে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, স্পেসএক্সের প্রতিটি শেয়ার প্রত্যাশিত ১৩৫ ডলার বা তার বেশি দামে বিক্রি হলে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত হবে। ফলে ইলোন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হতে পারেন।