কনটেইনার রাখার স্থান সংকটে চট্টগ্রাম বন্দর

ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় পাঁচদিন ধরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যের ডেলিভারিও বন্ধ রয়েছে। কিন্তু পণ্যবাহী জাহাজ বন্দরে আসতে থাকায় বহির্নোঙর এবং জেটিতে কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম চালু রাখা গেছে। এতেই সচল রয়েছে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম। তবে এনবিআরের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম পুরোপুরি কার্যকর না হলে আগামী তিনদিনের বেশি এ কার্যক্রমও ধরে রাখা যাবে না। কারণ প্রতিদিন জাহাজ থেকে প্রায় চার হাজার আমদানীকৃত কনটেইনার জেটিতে নামানো হলেও সেগুলো বের করা যাচ্ছে না। বর্তমানে বন্দরের অভ্যন্তরে কনটেইনার রাখার স্থান সংকট দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে বন্দরের ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় পাঁচদিন ধরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যের ডেলিভারিও বন্ধ রয়েছে। কিন্তু পণ্যবাহী জাহাজ বন্দরে আসতে থাকায় বহির্নোঙর এবং জেটিতে কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম চালু রাখা গেছে। এতেই সচল রয়েছে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম। তবে এনবিআরের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম পুরোপুরি কার্যকর না হলে আগামী তিনদিনের বেশি এ কার্যক্রমও ধরে রাখা যাবে না। কারণ প্রতিদিন জাহাজ থেকে প্রায় চার হাজার আমদানীকৃত কনটেইনার জেটিতে নামানো হলেও সেগুলো বের করা যাচ্ছে না। বর্তমানে বন্দরের অভ্যন্তরে কনটেইনার রাখার স্থান সংকট দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে বন্দরের ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। 

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার রাখার ধারণক্ষমতা ৫৩ হাজার ৫১৮ একক। স্বাভাবিক সময়ে এ বন্দর থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ৭০০ একক কনটেইনার ডেলিভারি করা হয়। অথচ গত পাঁচদিন বন্দরের ইয়ার্ড থেকে ডেলিভারি বন্ধ রয়েছে, এতে ৪২ হাজার একক কনটেইনার জমা হয়ে গেছে। 

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম আমাদের দিক থেকে এখন পর্যন্ত পুরোদমে চালু আছে। তবে বিপত্তি ঘটেছে বন্দরের ইয়ার্ড থেকে পণ্যের ডেলিভারি আটকে থাকায়। এখানে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স মিলছে না তাদের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম চালু না থাকার কারণে। এটি পুরোপুরি চালু করে ডেলিভারির জন্য দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়া হলে দুই-একদিনের মধ্যে কনটেইনার রাখার স্থান পাওয়া যাবে না। তখন বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং করাটা চ্যালেঞ্জিং হবে।’

চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার মো. ফাইজুর রহমান বণিক বার্তাকে জানান, গতকাল থেকে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে ইন-হাউজ (লেন সিস্টেম) কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়েছে। এতে বেশকিছু বিল অব এন্ট্রি ও বিল অব এক্সপোর্ট দাখিলও হয়েছে। বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা বলছেন, ম্যানুয়ালি পণ্যের শুল্কায়নের কথা বলা হলেও এটা আসলে সম্ভব হয়নি। এখন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশাল চাপ সামলাতে হবে বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে।

ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিএসআরএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আলীহুসাইন আকবর আলী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের সাপ্লাই চেইন এরই মধ্যে পুরোপুরি ডিস্টার্ব হয়ে গেছে। অনলাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় কোনো অর্ডারই বুক করতে পারিনি। স্বাভাবিকভাবেই উৎপাদন ব্যবস্থাও ধীর হয়ে গেছে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা কোনোভাবেই উচিত হয়নি। এ পদক্ষেপের কারণে পুরো অর্থনীতি এক কথায় স্টপ হয়েছে। এ সেবাটি যদি চলমান থাকত আমরা অন্তত ক্রেতার কাছে উৎপাদিত পণ্য পৌঁছে দিতে পারতাম।’

এদিকে জিপিএইচ ইস্পাতের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বন্দরের মূল সমস্যাটা হচ্ছে, অনলাইনে গেট ভেরিফিকেশন করতে না পারা। গাড়িতে মালামাল বোঝাই হলেও বন্দর থেকে বের হতে পারছে না কিংবা ঢুকতেও পারছে না। সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে ফাইন্যান্সিয়াল কস্ট বেড়ে যাওয়া, ক্যাশ ফ্লো না থাকা এগুলো দেখা দেয়।’ 

ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় ১৮ জুলাই থেকে এনবিআরের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। তবে গতকাল রাতে ব্রডব্যান্ড সেবা পুনরায় চালু হওয়ায় পণ্য খালাস প্রক্রিয়ায় বড় চাপ তৈরি হবে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বন্দরবিষয়ক সম্পাদক লিয়াকত আলী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ব্রডব্যান্ড সেবা চালু হওয়ায় এখন পণ্য খালাসের বড় চাপ তৈরি হবে। কারণ সবাই একসঙ্গে শুল্কায়ন ও খালাস প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চাইবে। আবার নির্দিষ্ট সময় অতিক্রম করায় ব্যবসায়ীরা বন্দরের ড্যামারেজও এড়াতে চাইবেন।’

আরও