আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমে দুই সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার বাড়ানোর আশঙ্কাও জোরালো হয়েছে। আগামী সপ্তাহে ফেডের মুদ্রানীতির সিদ্ধান্তের আগে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে স্বর্ণের বাজারে। খবর রয়টার্স।
প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত গতকাল স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮১ ডলার ৮৯ সেন্টে দাঁড়ায়। এর মাধ্যমে মূল্যবান ধাতুটির দাম দুই সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আগামী ডিসেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯৭ ডলার ৯০ সেন্টে দাঁড়ায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি করছে। গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি বেড়েছে। এদিকে সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর নতুন হামলার খবরের পর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরো বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার উদ্বেগও বেড়েছে।
দাম বাড়ার সময় স্বর্ণে বিনিয়োগ করলে সম্পদের মূল্য ধরে রাখা যায় বলে মনে করেন অনেকে। তবে স্বর্ণ থেকে সুদ পাওয়া যায় না। তাই সুদহার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের বদলে বেশি সুদ মেলে এমন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হন। ফলে স্বর্ণের চাহিদা ও দাম কমতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির সাম্প্রতিক তথ্যও সুদহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত দেশটির ভোক্তা ও উৎপাদক মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ছিল। জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডকে কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ করতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর ফেডের নীতিনির্ধারকদের বৈঠক হওয়ার কথা। বাজারের প্রত্যাশা অনুযায়ী, ওই বৈঠকে সুদহার অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস, ডিসেম্বরের বৈঠকে সুদহার বাড়ানো হতে পারে ২৫ বেসিস পয়েন্ট। এতে ফেডের নীতি সুদহার পৌঁছতে পারে ৪ থেকে ৪ দশমিক ২৫ শতাংশে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। গতকাল স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৫ ডলার ৮৬ সেন্টে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৫৮৬ ডলার ২২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। জুলাই ২০২৬-এর পর এটিই ধাতুটির সর্বনিম্ন দাম। অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৫২ ডলারে নেমেছে। এর আগে ধাতুটির দাম জুন ২০২৫-এর পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে দুই বছরের মধ্যে স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড গড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আর্থিক বাজারের অনিশ্চয়তা এবং ডলারের ওপর আস্থা কমে আসায় স্বর্ণের চাহিদা বাড়বে বলে মনে করছেন তারা। ট্রয় অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের তহবিল ব্যবস্থাপক শার্লট ইয়ং বলেন, ‘১২-১৮ মাসের মধ্যে স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।’