ডিএসইএক্স কমেছে প্রায় ২ শতাংশ

সপ্তাহের শুরুতেই পুঁজিবাজারে বড় দরপতন

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল দিনের প্রথমেই শেয়ার বিক্রির চাপ তীব্র হতে শুরু করে। লেনদেন চলাকালে প্রায় সব খাতের শেয়ারেই বিক্রয়চাপ দেখা গেছে। বিশেষ করে বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে দরপতন সূচকের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে গতকাল তীব্র বিক্রয়চাপের কারণে বড় ধরনের পতন হয়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘায়িত হওয়া এবং এর প্রভাবে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আয় ও মুনাফায় বড় ধসের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা আরো তীব্র হয়েছে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫৫৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এতে সূচকটি প্রায় আড়াই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে চলে যায়। সূচকের পাশাপাশি এদিন এক্সচেঞ্জটির দৈনিক লেনদেন কমেছে ২৪ শতাংশ।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল দিনের প্রথমেই শেয়ার বিক্রির চাপ তীব্র হতে শুরু করে। লেনদেন চলাকালে প্রায় সব খাতের শেয়ারেই বিক্রয়চাপ দেখা গেছে। বিশেষ করে বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে দরপতন সূচকের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। দিনের দ্বিতীয়ার্ধে বিক্রির প্রবণতা আরো তীব্র হলে অধিকাংশ শেয়ারের দর কমে যায়। বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটও প্রতিফলিত হয়েছে লেনদেনে। দিন শেষে ডিএসইতে আগের দিনের তুলনায় লেনদেন কমেছে ২৪ শতাংশ।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ আয় ও মুনাফা নিয়ে অনিশ্চয়তা। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা পুঁজিবাজারে আবারো বিক্রির চাপ বেড়েছে, যার প্রভাবে গতকাল সূচকে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে।

গতকাল ডিএসইএক্স সূচক প্রায় ১০৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫ হাজার ৬৬২ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে ২৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ১৪১ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস এদিন ২৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১১৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ১৩৮ পয়েন্ট। গতকাল সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, তীব্র বিক্রয়চাপের কারণে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। দেশব্যাপী গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা এবং করপোরেট আয়ে বড় ধরনের মন্দার আশঙ্কা বাড়ায় লেনদেনের শুরু থেকেই বাজার নিম্নমুখী ছিল। কার্যদিবসের দ্বিতীয়ার্ধে বিক্রয়চাপ আরো বেড়ে যাওয়ায় প্রায় সব খাতেই শেয়ারদর কমেছে। এছাড়া বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের নেতিবাচক মনোভাবের প্রভাব পড়েছে লেনদেনেও।

ডিএসইতে গতকাল ৫৪৫ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল প্রায় ৭২১ কোটি টাকা। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৮৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২০টির, কমেছে ৩৪৮টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ২১টির।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে বস্ত্র খাত। ১৪ দশমিক ২ শতাংশ দখলে নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সাধারণ বীমা খাত। ওষুধ ও রসায়ন খাত ১১ দশমিক ২ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে ছিল। ৭ দশমিক ৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ স্থানে ছিল প্রকৌশল খাত। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা ব্যাংক খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৬ দশমিক ২ শতাংশ।

গতকাল সব খাতের শেয়ারে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে সাধারণ বীমা ও বস্ত্র খাতে ৪ দশমিক ২ শতাংশ, কাগজ খাতে ৩ দশমিক ৮, ভ্রমণ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৩ দশমিক ৫, পাট খাতে ৩ দশমিক ৩ ও আর্থিক কোম্পানি খাতে ৩ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।

সিএসইর নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ৮৮ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ১৭৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই এদিন ১৭১ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ২০৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩০টির, কমেছে ১৫৭টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ১৭টির। গতকাল সিএসইতে ১৭ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১৫ কোটি টাকা।

আরও