চলতি বছর এশিয়ার সবচেয়ে খারাপ মুদ্রাগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ইউয়ান। তবে ওয়াং চুনইং স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব ফরেন এক্সচেঞ্জের (সেফ) উপপ্রধান ইউয়ানের ভবিষ্যতের সম্ভাবনা সম্পর্কে ইতিবাচক রয়েছেন। তার বিশ্বাস ইউয়ানের বিনিময় হারের জন্য বাজার স্থিতিশীল করতে চীনের প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার সুদহার বৃদ্ধির ফলে বাহ্যিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হবে। এছাড়া বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতির পাশাপাশি মহামারী-পরবর্তী অসম পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও চীনের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও উন্নতি আগামীতে অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
ওয়াং চুনইং আরো বলেন, ‘মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর আর্থিক নীতির প্রভাবগুলো সময়ের সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়বে এবং দিন শেষে চীনা মুদ্রাকে সমর্থন দেবে। যদিও ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার বাড়ানো অব্যাহত রাখতে পারে, তবে এটি তার সুদহার বৃদ্ধি চক্রের শেষের কাছাকাছি। ফলে ইউয়ানের ওপর চাপ কমতে পারে।’
সেফের উপপ্রধান আরো জোর দিয়ে বলেন, ‘চীনের অর্থনৈতিক মৌলিক বিষয়গুলো ইউয়ানের হার নির্ণায়ক ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে। ওয়াংয়ের মতে, প্রধান অর্থনৈতিক খেলোয়াড় হিসেবে চীনের ভূমিকা সামনের দিনগুলোয় আরো শক্তিশালী হবে এবং তা বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকেও সমর্থন করবে। ইউয়ানকে শক্তিশালী করার জন্য পিপলস ব্যাংক অব চায়না ও সেফ ম্যাক্রো প্রুডেনশিয়াল ম্যানেজমেন্টের জন্য মূল প্যারামিটার বাড়িয়েছে। এ পদক্ষেপের লক্ষ্য হচ্ছে, বিদেশী অর্থায়নের সুযোগগুলোকে সম্প্রসারণ করা, আন্তঃসীমান্ত অর্থায়নের উৎস বাড়ানো, মূলধন প্রবাহ আকৃষ্ট করা ও অভ্যন্তরীণ বাজারে তারল্য বাড়ানো। মুদ্রাবাজার এ পদক্ষেপে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে কারণ এটি বৈদেশিক মুদ্রার প্রত্যাশা ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুদহারের ব্যবধান বাড়লেও চীনের আন্তঃসীমান্ত মূলধন প্রবাহ তুলনামূলক স্থিতিশীল।
অন্যদিকে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ইউয়ান নিয়ন্ত্রিত সম্পদে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে, যা চীনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতি ক্রমবর্ধমান আস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে। চীনের মুদ্রানীতি স্বাধীন, যা দেশটিকে উন্নত ও উদীয়মান বাজারের বন্ডসহ বিনিয়োগকারীদের বৈচিত্র্যময় বিকল্প সরবরাহ করছে। সেফ উপপ্রধান আশ্বস্ত করেছেন ইউয়ানের হার একটি যুক্তিসংগত ও ভারসাম্যপূর্ণ স্তরে স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বাহ্যিক যেকোনো ধাক্কা মোকাবেলায় চীনের সঞ্চিত অভিজ্ঞতা ও তাদের হাতে থাকা সরঞ্জামগুলো স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মূল্যবান ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।
ওয়াং আরো নিশ্চিত করেন বাজারের প্রত্যাশা আপাতত স্থিতিশীল করতে ব্যাপক নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে চীন প্রকৃত বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং বাজারের স্থিতিশীল পরিবেশ প্রদানে সে অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যবস্থা নেবে। চীনের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার অব্যাহত থাকার পাশাপাশি ফেডের সুদহার বাড়ানোর প্রভাব কমার সঙ্গে ইউয়ানের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা আশাব্যঞ্জক। স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে মনোনিবেশ করে চীন সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে দিয়ে চীনা মুদ্রাকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিনিময় হার বজায় রাখার উদ্দেশ্যে কাজ করে যাচ্ছে।