এপ্রিল-জুন প্রান্তিক

চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ৪.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে

চীনে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমেছে।

এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ, যা বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) ৫ শতাংশের তুলনায় কম। একই সঙ্গে এটি সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রারও নিচে। খবর বিবিসি।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এ ধীরগতির পেছনে দুটি সম্ভাব্য কারণ উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষকরা। এক. দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও দুই. ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়া। যদিও একই সময়ে দেশটির রফতানি শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। চীনের রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেড়েছে গত জুনে।

এর আগে মার্চে চলতি বছরের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করে চীন। ১৯৯১ সালের পর এটিই ছিল দেশটির সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে নীতিনির্ধারকদের আরো নমনীয়তা দিতেই এ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো বলেছে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতিতে উৎপাদন শক্তিশালী থাকলেও চাহিদা দুর্বল রয়েছে। এ ভারসাম্যহীনতা প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

সরকারের প্রকাশিত পৃথক তথ্যে দেখা গেছে, চীনের আবাসন খাতের সংকট এখনো কাটেনি। গত জুনেও নতুন বাড়ির দাম কমেছে। তবে মে মাসের তুলনায় মূল্যহ্রাসের গতি কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে খুচরা বিক্রি জুনে ১ শতাংশ বেড়েছে। আগের মাসে খুচরা বিক্রি দশমিক ৬ শতাংশ কমেছিল।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইজির বাজার বিশ্লেষক ফ্যাবিয়েন ইয়িপ বলেন, ‘দুর্বল ভোক্তা চাহিদার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান বাড়তি জ্বালানি ও কাঁচামালের খরচ নিজেরাই বহন করছে। ফলে সে ব্যয় পুরোপুরি ভোক্তার ওপর চাপানো সম্ভব হচ্ছে না।’

তার মতে, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এ পরিস্থিতি সামাল দেয়া আরো কঠিন হবে। তবে রফতানি খাতে ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও