যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসে কমেছে ৯২ হাজার কর্মসংস্থান

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে গত মাসে কর্মসংস্থানের সংখ্যা অপ্রত্যাশিতভাবে কমেছে।

ফলে দেশটির শক্তিশালী শ্রমবাজারে নতুন করে তৈরি হয়েছে ফাটল ধরার শঙ্কা। সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পে-রোল বা কর্মসংস্থান কমেছে ৯২ হাজার। একই সঙ্গে বেকারত্বের হার সামান্য বেড়ে ৪ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। খবর বিবিসি।

কর্মসংস্থান কমা বলতে মূলত চাকরির সংখ্যা বা শ্রমবাজারে কর্মরত মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়াকে বোঝায়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে ফেব্রুয়ারির কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি অনেকটাই ধীর হয়ে আসার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন অর্থনীতিবিদরা। রয়টার্স পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য দেন তারা। পাশাপাশি নিয়োগের গতি কমলেও বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৩ শতাংশে স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল।

বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবরের সাময়িক শাটডাউনের পর দেশটির শ্রমবাজারে একক মাসে সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থান হারানোর ঘটনা ঘটে ফেব্রুয়ারিতে। বিশেষ করে ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তার প্রতিফলন এখন মার্কিন কর্মসংস্থানে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

তথ্যানুযায়ী, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি খাতেই কর্মসংস্থান কমেছে। এমনকি মার্কিন অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত স্বাস্থ্যসেবা খাতেও বড় ধরনের ধস নেমেছে। মূলত গত মাসে এ খাতে ব্যাপক ধর্মঘটের কারণে বড়সংখ্যক মানুষ কাজ হারিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরির বাজারেও অস্থিরতা কমছে না। দেশটির শ্রম দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত মাসে ফেডারেল সরকারে ১০ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছার পর থেকে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারে মোট কর্মসংস্থান ৩ লাখ ৩০ হাজার বা প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে।

শুধু গত মাসের চিত্রই নয়, শ্রম দপ্তর জানিয়েছে, গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির যে তথ্য প্রাথমিকভাবে দেয়া হয়েছিল, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়েও কম।

শ্রমবাজারের এমন নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেও আশাবাদী মার্কিন ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের পরিচালক কেভিন হ্যাসেট। সিএনবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সামনের মাসগুলোয় শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মূল ভূমিকা রাখবে। সামনে অনেক বেশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হতে যাচ্ছে। ফলে কাজ করতে আগ্রহীরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো চাকরি খুঁজে পাবেন।’

আরও