আইইএর প্রতিবেদন

ইরান যুদ্ধে জ্বালানি তেল সরবরাহে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিঘ্ন’

হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ায় উপসাগরীয় দেশগুলো দিনে অন্তত ১ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে চলতি মাসে বৈশ্বিক উত্তোলন দৈনিক ৮০ লাখ ব্যারেল কমতে পারে

চলমান ইরানে যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি তেল বাজারে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সরবরাহ বিঘ্ন’ সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে উত্তোলন নেমে গেছে চার বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। আজ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। খবর এফটি।

সংস্থাটি বলেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ায় উপসাগরীয় দেশগুলো দিনে অন্তত ১ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে চলতি মাসে বৈশ্বিক উত্তোলন দৈনিক ৮০ লাখ ব্যারেল কমতে পারে। যা গত মাসের দৈনিক উত্তোলিত প্রায় ১০ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেলের তুলনায় ৭ শতাংশেরও বেশি পতন নির্দেশ করে।

আইইএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বৈশ্বিক জ্বালানি তেল বাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সরবরাহ বিঘ্ন তৈরি করছে। ইরাক, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও সৌদি আরবের জ্বালানি তেল উত্তোলনে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।

তবে আইইএ বলছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তোলন কমে যাওয়ার একটি অংশ কাজাখস্তান ও রাশিয়ার উত্তোলন বৃদ্ধি এবং ওপেক প্লাসের বাইরের দেশগুলো থেকে অতিরিক্ত সরবরাহ দিয়ে কিছুটা পুষিয়ে যেতে পারে।

এরই মধ্যে উপসাগরের বাইরে থাকা বন্দর দিয়ে কিছু পরিমাণ জ্বালানি তেল রফতানি শুরু করেছে সৌদি আরব ও ইউএই। পশ্চিম উপকূলের বন্দরগুলো দিয়ে সৌদি আরব ৯ মার্চ একদিনে ৫৯ লাখ ব্যারেল রফতানির রেকর্ড গড়েছে। অথচ ২০২৫ সালে এ পথ দিয়ে রফতানি হয়েছিল দৈনিক ১৭ লাখ ব্যারেল।

আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (এডনক) ৪-৯ মার্চের মধ্যে ফুজাইরা বন্দর থেকে গড়ে দৈনিক ২৪ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল জাহাজে তুলেছে। বন্দরটি এডনকের উৎপাদন কেন্দ্র হাবশান থেকে আসা একটি পাইপলাইন এবং ৪ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল ধারণক্ষমতার আল-মানদুস ভূগর্ভস্থ ক্রুড স্টোরেজের সঙ্গে সংযুক্ত।

আইইএ বলছে, বৈশ্বিক জ্বালানি তেল সরবরাহে চলমান সংকট কতটা গুরুতর হবে, তা মূলত সংঘাত কতদিন স্থায়ী হয় তার ওপর নির্ভর করবে।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুসারে, ২০২৬ সালে গড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেল সরবরাহ দৈনিক ১১ লাখ ব্যারেল বাড়তে পারে। তবে এটি এক মাস আগে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক কম। কারণ গত মাসে আইইএ বলেছিল, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক সরবরাহ দৈনিক ২৪ লাখ ব্যারেল বাড়তে পারে।

আরও