এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে প্রভাব পড়বে বিশ্ববাজারে: কাতারের আমির

কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি গত মার্চের শুরুতে এলএনজি উৎপাদন স্থগিত করে দেয়। ওই সময় মুসাইয়িদ ও রাস লাফান এলাকার জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলা হয়। বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রফতানি কেন্দ্রটি রাস লাফান শিল্পনগরীতে অবস্থিত। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান থেকে আসা দুটি ড্রোন এসব স্থাপনায় হামলা চালায়

বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের জোগান দেয় কাতার। তাই দেশটির পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে দ্রুত এর প্রভাব পড়ে বিশ্ববাজারে। গত মঙ্গলবার কাতারের শুরা কাউন্সিলে দেয়া বক্তব্যে এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। খবর আনাদোলু এজেন্সি।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চলমান এ আঞ্চলিক সংকটের সময়ে কাতার প্রধানত তিনটি দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কাজ করছে। তা হলো, নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, বৈশ্বিক জ্বালানি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সচল রাখা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ খোলা রাখা।’

কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি গত মার্চের শুরুতে এলএনজি উৎপাদন স্থগিত করে। ওই সময় মুসাইয়িদ ও রাস লাফান এলাকার জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলা হয়। বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রফতানি কেন্দ্রটি রাস লাফান শিল্পনগরীতে অবস্থিত। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান থেকে আসা দুটি ড্রোন এসব স্থাপনায় হামলা চালায়।

কাতারের আমির জানান, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কারণে এলএনজি রফতানি ব্যাহত হয়েছে। এতে দেশটির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব পড়লেও তা মূলত জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি বন্ধ থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও এলএনজি পরিবহনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যতম প্রধান এলএনজি সরবরাহকারী দেশ কাতার। ফলে দেশটির উৎপাদন ও রফতানি ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের সরবরাহ, দাম এবং জ্বালানি নিরাপত্তায় প্রভাব পড়ে। তবে চলমান সংকটের মধ্যেও গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে কাতার। দেশটির নর্থ ফিল্ড গ্যাসক্ষেত্র সম্প্রসারণের কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে। এর মাধ্যমে এলএনজি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে গোল্ডেন পাস এলএনজি প্রকল্পেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান আমির। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও অংশীদারত্ব বাড়াচ্ছে কাতারএনার্জি।

কাতারের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে শেখ তামিম বলেন, ‘ইরানের হামলা কাতারের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। তবে আত্মরক্ষার অধিকার থাকলেও কাতার চায় না যুদ্ধ আরো ছড়িয়ে পড়ুক।’ তিনি বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংলাপ, আলোচনা ও কূটনীতির ওপর গুরুত্ব দেন।

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বালানি, পানি ও বেসামরিক অবকাঠামো সুরক্ষায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের আমির।

আরও