আইইএ প্রধানের পূর্বাভাস

জুলাই-আগস্টে ‘ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়’ পড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার

আগামী জুলাই-আগস্ট নাগাদ বৈশ্বিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার ‘রেড জোন’ বা ‘ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়’ পড়তে পারে।

মূলত জ্বালানির গ্রীষ্মকালীন বাড়তি চাহিদা, মধ্যপ্রাচ্য থেকে নতুন করে তেল রফতানি বন্ধ থাকা এবং মজুদ ফুরিয়ে আসার সম্মিলিত প্রভাবে এ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। লন্ডনের চ্যাথাম হাউজে দেয়া এক বক্তব্যে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল। খবর রয়টার্স।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘পরিস্থিতির যদি কোনো উন্নতি না হয় তাহলে জুলাই বা আগস্টের মধ্যে আমরা একটি রেড জোনে প্রবেশ করতে যাচ্ছি।’

মূলত ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ সংকটের কারণে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

ইরান যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা এবং দেশটির পক্ষ থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দৈনিক ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেলের বেশি জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি তেল সরবরাহ সংকট হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

ফাতিহ বিরোল ‘রেড জোন’ বলতে ঠিক কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হবে তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধের আগের বাড়তি জ্বালানি তেলের মজুদ, আইইএর সমন্বিত ৪০ কোটি ব্যারেল জরুরি কৌশলগত মজুদ অবমুক্তকরণ এবং বাণিজ্যিক মজুদ—সব মিলিয়েও এ সংকট পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না।

বর্তমানে ৩২টি দেশের সংগঠন আইইএর জরুরি মজুদ থেকে দৈনিক ২৫-৩০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, এ গতিতে চলতে থাকলে আগামী আগস্টের শুরুতে ৪০ কোটি ব্যারেলের এ প্রাথমিক মজুদ শেষ হয়ে যাবে। আর ঠিক এই সময়েই বাজার ‘রেড জোনে’ প্রবেশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রয়োজনে আইইএ আরো মজুদ অবমুক্ত করতে প্রস্তুত বলেও জানান সংস্থাটির প্রধান।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন ও পরিশোধন কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনা বেশ সময়সাপেক্ষ এবং এটি দেশভেদে ভিন্ন হবে বলে জানান ফাতিহ বিরোল। তিনি বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় ভয় ইরাককে নিয়ে। জ্বালানি তেল থেকে রাজস্ব কমে যাওয়ায় দেশটির অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ধারণক্ষমতার অভাবে ইরাক অনেক তেলকূপ পুরোপুরি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে, যা পুনরায় সচল করা বেশ জটিল ও ব্যয়বহুল।’

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) পর্যাপ্ত তহবিল ও উন্নত প্রযুক্তি থাকায় তারা পরিস্থিতি তুলনামূলক দ্রুত সামাল দিতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরও