বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) প্রসাধন সামগ্রী বা কসমেটিকস এবং পোশাক বিক্রিতে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের (ওএনএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ সময় নতুন নতুন পণ্য বাজারে আসার কারণে কসমেটিকস ও টয়লেট্রিজ দোকানগুলোর ব্যবসা ছিল বেশ ‘চাঙ্গা’। খবর ইন্ডাস্ট্রি বিউটি।
ওএনএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চে শেষ হওয়া প্রান্তিকে দেশটিতে খুচরা বিক্রির মোট পরিমাণ আগের প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) তুলনায় বেড়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। মূলত আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ায় পোশাকের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে, যা এ প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
ফেব্রুয়ারির বিক্রিতে দশমিক ৬ শতাংশ ঘাটতি থাকলেও মার্চে তা কাটিয়ে উঠে দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে। বিশেষ করে বিভাগীয় বিপণিবিতান, পোশাক ও গৃহস্থালি সামগ্রীর মতো খাদ্যবহির্ভূত খাতে বিক্রি বেড়েছে গত মাসে। যানবাহনের জ্বালানি বাদ দিলে সামগ্রিক বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে দশমিক ২ শতাংশ।
ঘুরে দাঁড়িয়েছে পোশাক ও অনলাইন খাতও। গত ফেব্রুয়ারি পোশাক খাতের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। সে সময় টেক্সটাইল, পোশাক ও জুতা বিক্রির পরিমাণ ১ শতাংশ কমে যায়। তবে মার্চের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, খাতটি বেশ দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
ওএনএসের পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে এ খাতে বিক্রি বেড়েছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ। জানুয়ারিতে স্পোর্টস সাপ্লিমেন্ট বা শরীরচর্চা সম্পর্কিত খাদ্যের বিক্রি বাড়ায় অনলাইন খুচরা বিক্রেতারা বেশ লাভবান হয়েছেন। এছাড়া অনলাইনে টেক্সটাইল ও পোশাক বিক্রির আর্থিক মূল্যও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
ওএনএসের সিনিয়র স্ট্যাটিস্টিশিয়ান হান্নাহ ফিনসেলবাখ জানান, বছরের প্রথম তিন মাসে খুচরা বিক্রির ঊর্ধ্বগতি বেশ আশাব্যঞ্জক। তিনি বলেন, ‘বছরের শুরুতে বাণিজ্যিক আর্ট গ্যালারিগুলোও বেশ ভালো ব্যবসা করেছে। পাশাপাশি নতুন পণ্য বাজারে আসায় বিউটি প্রডাক্ট বা প্রসাধন সামগ্রীর দোকানে বিক্রি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।’
প্যানথিয়ন ম্যাক্রোইকোনমিকসের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ এলিয়ট জর্ডান-ডোক এ পরিস্থিতিকে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট অস্থিরতার মধ্যেও গ্রাহকদের কেনাকাটার এ হার ইতিবাচক।