কভিড-১৯ মহামারীতে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক বৈষম্য দেখা দিয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জারি করা বিধিনিষেধে অর্থনৈতিক কার্যক্রম থমকে গেলও অতিধনীদের সম্পদ বেড়েছে কয়েক গুণ। যুক্তরাষ্ট্রের অতিধনীরা রিবাউন্ডিং স্টক ও আবাসন খাতের মতো উচ্চ উপার্জনের খাতগুলোয় ঝুঁকে পড়ায় তাদের সম্পদ বেড়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ থেকে পারিবারিক সম্পদের ওপর সর্বশেষ প্রান্তিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২০ সালে অতিধনী ১ শতাংশ পরিবারের সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ তারা দেশজুড়ে বৃদ্ধি পাওয়া সম্পদের প্রায় ৩৫ শতাংশ দখল করেছে। যেখানে দরিদ্র অর্ধেক মানুষ সামগ্রিক বৃদ্ধি পাওয়া সম্পদের মাত্র ৪ শতাংশের মালিকানায় ছিল। খবর ব্লুমবার্গ।
মহামারীতে সৃষ্ট সম্পদের অসমতার বিষয়টি লক্ষ করে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন নতুন নীতি নিয়ে আসছে। এক্ষেত্রে তারা উচ্চ আয়ের পরিবারগুলোকে অতিরিক্ত করের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছে। ধনী মার্কিনরা স্টক ও মিউচুয়াল ফান্ড থেকে লাভের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যবসার মালিকানা থেকে সবচেয়ে বেশি সম্পদ অর্জন করেছেন। গত বছর অতিধনীদের সম্পদ বৃদ্ধিতে ইকুইটি হোল্ডিংস সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। এক্ষেত্রে হোম ইকুইটি বা পেনশন এনটাইটেলমেন্টের মতো সম্পদ আরো বেশি সহায়তা করেছে।
আর এ সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়টি দেশটির শিক্ষার বিভাজনকে আরো একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। কলেজ ডিগ্রিবিহীন পরিবারগুলোর ২০২০ সালে দেশের মোট সম্পদের মালিকানার অংশীদারিত্ব কমে গেছে। গত বছরের শেষ দিকে কলেজ ডিগ্রিধারী পরিবারগুলোর হাতে দেশটির মোট সম্পদের ৭১ দশমিক ৮ শতাংশ ছিল। অন্যদিকে হাইস্কুল ডিগ্রিবিহীন পরিবারগুলোর সম্পদ ১১ হাজার ১০০ কোটি ডলার হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে দেশটির মোট জাতীয় সম্পদের মাত্র ১ দশমিক ৬ শতাংশ এ গোষ্ঠীর হাতে রয়েছে। এটি ১৯৮৯ সালের পর রেকর্ড সর্বনিম্ন।
এছাড়া সম্পদের এ বৃদ্ধি মার্কিনদের বয়সের বিভাজনকেও তুলে ধরেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ফেডের ডাটায় দেখা গেছে, ৫৫ থেকে ৬৯ বয়সী মার্কিনের হাতে থাকা সম্পদের অংশ গত বছর কমে গেছে। দেশটির মোট সম্পদে এ বয়সীদের সম্পদের মালিকানা এক বছর আগে ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে গত বছর ৪২ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ৪০ বছরের কম বয়সী মার্কিনদের সম্পদ কিছুটা বাড়লেও জাতীয় সম্পদে তাদের মালিকানা এখনো ৬ শতাংশের নিচে রয়েছে। এটা ১৯৮০-এর দশকের শেষভাগের তুলনায় জাতীয় সম্পদে এ বয়সীদের মালিকানার প্রায় অর্ধেক।
এছাড়া অর্থনীতিতে জাতিগত বৈষম্যের চ্যালেঞ্জগুলোও বাইডেন প্রশাসনের এজেন্ডার শীর্ষে রয়েছে। ফেডের তথ্যে দেখা গেছে, শ্বেতাঙ্গ মার্কিনদের হাতে থাকা সম্পদ প্রথমবারের মতো ২০২০ সালে শত ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ২০০৯ সালে জুনে মহামন্দা শেষ হওয়ার পর তাদের সম্পদের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। অন্যান্য জাতিগত গোষ্ঠীরও ২০২০ সালে তাদের সম্পদ ব্যাপকভাবে একই গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছিল। যদিও পরিমাণের দিক থেকে শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় তা অনেক কম।