এ তালিকায় রয়েছে সমুদ্রগামী জাহাজ পরিচালনাকারী গোষ্ঠী, জাহাজের মালিক, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও লজিস্টিকস কোম্পানি। খবর এফটি।
অ্যান্টওয়ার্প-ব্রুগেস বন্দরের পাশাপাশি জার্মানি ও ডেনমার্কের বিভিন্ন বন্দর, লজিস্টিকস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান কুয়েন+নাগেল এবং ফক্সওয়াগনের মালিকানাধীন ইঞ্জিন ও টারবাইন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এভারলেন্স এ আহ্বানে শামিল হয়েছে। সমুদ্রপথে পরিবহন ও শিপিং খাতের জন্য প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন দেশকে একটি জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে।
আগামী মাসে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার আগে লেখা এক খোলা চিঠিতে প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, গত বছর ঐকমত্য হওয়া ফ্রেমওয়ার্কটি ছিল একটি কঠিন লড়াইয়ের পর পাওয়া সমঝোতা। এটি এরই মধ্যে শিল্প খাতের ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে।
চিঠিতে আরো বলা হয়, চুক্তিটি আন্তর্জাতিক শিপিং খাতের কার্বনমুক্তকরণের জন্য একটি স্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য পথ তৈরি করবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশই সমুদ্রপথে সম্পন্ন হয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী কার্বন নিঃসরণের আনুমানিক ৩ শতাংশ আসে শিপিং খাত থেকে।
এদিকে শিপিং খাতের জন্য জাতিসংঘভিত্তিক একটি ‘নিট জিরো’ ফ্রেমওয়ার্ক ভেস্তে দিতে যুক্তরাষ্ট্র ভয়ভীতি প্রদর্শনের কৌশল অবলম্বন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের এপ্রিলে প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত এ চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল সামুদ্রিক পণ্য পরিবহনের ওপর কার্বন নিঃসরণ শুল্ক আরোপ করা।
অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হুমকি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে চাপ প্রয়োগের ফলে গত অক্টোবরের আইএমও বৈঠকে আফ্রিকা এবং প্রশান্ত ও ক্যারিবীয় মহাসাগরীয় ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়।
বিশ্বের পণ্যবাহী জাহাজ নিবন্ধনের বৃহত্তম কেন্দ্র বা ‘ফ্ল্যাগ স্টেট’ হিসেবে পরিচিত পানামা, লাইবেরিয়া ও মার্শাল আইল্যান্ডস। বিশ্বের মোট বাণিজ্যিক জাহাজের প্রায় অর্ধেকই এসব দেশে নিবন্ধিত। ফলে শিপিং খাতের কার্বন নিঃসরণ-সংক্রান্ত যেকোনো বৈশ্বিক চুক্তির সফলতার জন্য এসব দেশের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সম্প্রতি পানামা ও লাইবেরিয়া কার্বন শুল্ক বাদ দিয়ে চুক্তির কাঠামোয় যে সংশোধন প্রস্তাব করেছে, তার তীব্র বিরোধিতা করেছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় সাতটি দ্বীপ রাষ্ট্রের একটি জোট।
তারা জানায়, শিপিং খাতকে পরিবেশবান্ধব করার জন্য কঠোর নিয়মাবলি অপরিহার্য, ফ্রেমওয়ার্কের মূল উপাদান বাদ দিলে কার্যকারিতা নষ্ট হবে।