এ স্বপ্নের অন্যতম প্রধান দুয়ার খুলে দেয় ‘জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস’ বা ডাড স্কলারশিপ।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
ডাডের বিভিন্ন স্কলারশিপে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ভর করে নির্দিষ্ট কর্মসূচির ওপর। সাধারণভাবে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের বৃত্তির জন্য আবেদনকারীকে সাধারণত স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হয়। পিএইচডির জন্য স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ও গবেষণা থাকতে হয়।
ডাডের সাধারণ নিয়মে নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমা নেই। তবে কিছু কর্মসূচিতে সর্বশেষ ডিগ্রি অর্জনের পর কত বছর পার হয়েছে, সে বিষয়ে শর্ত থাকতে পারে। আবেদনকারীর সর্বশেষ ডিগ্রি, একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড এবং নির্বাচিত স্কলারশিপের নির্দিষ্ট শর্ত দেখতে হয়।
ডাড বৃত্তি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হওয়ায় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় একাডেমিক অর্জন, একাডেমিক বিষয়ের সঙ্গে মিল রেখে চাকরির অভিজ্ঞতা, নির্বাচিত বিষয়ে জ্ঞান, ভাষাগত দক্ষতা বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি আবেদনকারী জার্মানিতে যে কোর্স বা গবেষণা করতে চান, তার যৌক্তিকতা ও ভবিষ্যতে দেশে ফিরে ক্যারিয়ার পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ।
কত টাকা পাওয়া যায়?
ডাডের স্কলারশিপের আওতায় স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বর্তমানে মাসে ৯৯২ ইউরো বৃত্তি দেয়া হয়। ডক্টরাল পর্যায়ে বর্তমানে ১ হাজার ৪০০ ইউরো পর্যন্ত মাসিক অর্থায়নের কথা ডাড জানিয়েছে। এর সঙ্গে বীমা ও ভ্রমণ ভাতাও রয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বাসাভাড়া ও পরিবারসংক্রান্ত অতিরিক্ত সুবিধা মিলতে পারে।
কী কী কাগজপত্র লাগে?
স্কলারশিপভেদে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা আলাদা হলেও সাধারণত একাডেমিক সনদ ও নম্বরপত্র, জীবনবৃত্তান্ত, উদ্দেশ্যপত্র বা অনুপ্রেরণাপত্র, ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণ, সুপারিশপত্র এবং নির্বাচিত কোর্স বা গবেষণার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হয়।
আবেদন কীভাবে করবেন?
আবেদনকারীকে উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক হতে হবে। প্রথমে ডাডের অফিশিয়াল স্কলারশিপ ডেটাবেজ থেকে নিজের দেশ, শিক্ষাগত স্তর ও বিষয় অনুযায়ী উপযুক্ত স্কলারশিপ খুঁজতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট স্কলারশিপের ‘আবেদন প্রক্রিয়া’ ভালোভাবে পড়ে দেখতে হবে, আবেদন ডাড পোর্টালের মাধ্যমে হবে নাকি নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে হবে।
ডাড স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আবেদন পদ্ধতি স্কলারশিপভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। ডাড পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে হলে অনলাইনে নিবন্ধন করে নির্ধারিত নথি আপলোড করতে হয়।
আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ: গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো একজন প্রার্থীকে নিজের একাডেমিক ফলাফল, গবেষণা বা পেশাগত চাকরির অভিজ্ঞতা, নির্বাচিত কোর্সের সঙ্গে নিজের পূর্ববর্তী পড়াশোনার সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করতে হবে। এছাড়া শেষ মুহূর্তে আবেদন না করে অন্তত কয়েক মাস আগে প্রস্তুতি শুরু করা জরুরি। ভাষার পরীক্ষা, শিক্ষক ও কর্মক্ষেত্রে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে সুপারিশপত্র, উদ্দেশ্যপত্র, চাকরির অভিজ্ঞতা পত্র, সহশিক্ষা কার্যক্রমের সব নথি ইত্যাদি কাগজ প্রস্তুত রাখা।
ডাডের অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, স্কলারশিপের শর্ত ও আবেদনের শেষ সময় নিয়মিত হালনাগাদ হতে পারে। তবে প্রতি বছর সাধারণত প্রোগ্রামভেদে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদন চলে।
রায়হান আহমদ: শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক মিডিয়া স্টাডিজ প্রোগ্রাম,
ডাড ও ডয়চে ভেলে একাডেমি স্কলারশিপ