কিন্তু মনের ভেতর ব্যবসার প্রতি টান অনুভব করতেন মাসনুর মোরসেদ ইফাজ। সেই তাগিদ থেকেই অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় শখের বশে অনলাইনে স্পোর্টস জার্সি বিক্রি শুরু। নিজের পরিশ্রম ও পরিবারের আস্থায় টানা পাঁচ বছর সাফল্য ধরে রাখার পর যুক্ত হন সিলেটের ঐতিহ্যবাহী চা-পাতার ব্যবসায়। দারাজে বিক্রেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও ইফাজের ইচ্ছে ছিল গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার।
করোনাকালের অবসর সেই সুযোগ এনে দেয়। আগের ব্যবসার অভিজ্ঞতা, সঞ্চিত মুনাফা ও পরিবারের সহায়তায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় চালু করেন প্রথম রেস্টুরেন্ট ‘Ruti Gosh and Flame’। আছাড়ি খিচুড়ি, বিফ কালা ভুনা, লুচি ও বিফ ঝোলের মতো জিভে জল আনা বাঙালি খাবারের স্বাদ দিয়ে মন জয় করেন ক্রেতাদের।
তবে এ পথচলা কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। প্রথম বছর লাভের মুখ দেখলেও পরের বছর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার চাপে রেস্টুরেন্টে সময় দিতে না পেরে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। অনিশ্চয়তায় পথ থমকে দাঁড়ানোর উপক্রম হলেও হাল ছাড়েননি। শেষবার চেষ্টার জেদ নিয়ে নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়ান।
বর্তমানে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড নিউট্রিশন সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন মাসনুর ইফাজ। পড়াশোনার পাশাপাশি মানসম্মত খাবার পরিবেশন করে এরই মধ্যে অর্জন করেছেন গ্রাহকের আস্থা। মাসনুর ইফাজের মতে, কেবল কঠোর পরিশ্রম নয়; ভালো সাপ্লায়ার, স্থানীয় উদ্যোক্তা ও অভিজ্ঞদের সঠিক দিকনির্দেশনাই ব্যবসার মূল শক্তি।
সাফল্যের ধারায় এবার ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় চালু করতে যাচ্ছেন নতুন রেস্টুরেন্ট ‘Pocket Lunch’। শিক্ষার্থীদের হাতের নাগালে সুলভমূল্যে মানসম্মত খাবার পৌঁছে দেয়াই তার লক্ষ্য।
ভবিষ্যতে নিজের ব্যবসাকে আরো বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে চান এ তরুণ। নবীন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে ইফাজ বলেন, ‘ব্যবসায় রাতারাতি সাফল্য আসে না। ভালো অবস্থান তৈরি করতে ধৈর্য, ত্যাগ ও কঠোর পরিশ্রম নিয়ে লেগে থাকতে হয়। স্রষ্টার কৃপা আর পরিবারের সাহস থাকলে সফলতা আসবেই।’