সরাসরি চাকরির সুপারিশ না চেয়ে লিংকডইনে সম্পর্ক গড়ুন

জান্নাতুন নাঈম

টেরিটরি অফিসার বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেড

অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করে বাংলালিংকের চাকরিটা কীভাবে পেলে? অনেকে ভাবে, হয়তো ভাগ্য ভালো ছিল কিংবা প্রভাবশালীদের সুপারিশ ছিল। তবে আমার অভিজ্ঞতাটা ছিল একদম ভিন্ন।

চাকরি খোঁজার সময় আমি কেবল লিংকডইনে গিয়ে ‘‌ইজি অ্যাপ্লাই’ অপশনে ক্লিক করেই দায়িত্ব শেষ করতাম না। আমার মূল চেষ্টা ছিল খাতসংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া। এমনই এক পর্যায়ে এইচআর বিভাগে কর্মরত এক জ্যেষ্ঠ পেশাজীবীর সঙ্গে যুক্ত হই। ধীরে ধীরে তার সঙ্গে কথা বলা শুরু করি এবং বিনয়ের সঙ্গে জানাই আমি শিখতে চাই এবং তার সঠিক দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করি। তিনি সত্যিই আমাকে সময় দিতে শুরু করলেন। সিভি পর্যালোচনা করে ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দিতেন এবং কীভাবে আরো আকর্ষণীয় করা যায়, সে বিষয়ে পথ দেখাতেন। ইন্টারভিউ প্রেজেন্টেশন কীভাবে সাজাতে হয় এবং স্প্রেডশিটের বিভিন্ন কাজ কীভাবে নিখুঁতভাবে করতে হয়, তাও ধৈর্য ধরে শিখিয়ে দিয়েছেন। প্রতিটি ধাপে কীভাবে নিজেকে সবার চেয়ে আলাদা ও দক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করা যায়, তিনি যেন তা হাতেকলমে শিখিয়ে দিয়েছিলেন। আমি চেষ্টা করেছি তার প্রতিটি মতামত গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগানোর। ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে একটি পারস্পরিক বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হয়। কেবল পরামর্শ নেয়া নয়, বরং আমার শেখার তীব্র আগ্রহ আর নিয়মিত চেষ্টাই সম্ভবত তার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল।

কয়েক মাস পর একদিন তিনি নিজে থেকেই আমার জীবনবৃত্তান্ত চাইলেন। কিছুদিন পরেই আমার কাছে মূল্যায়ন পরীক্ষার জন্য আহ্বান আসে। অনেকেই ভাবেন গল্পটা বুঝি এখানেই শেষ। কিন্তু আমার মতে, আসল লড়াইটা শুরু হয়েছিল ঠিক তখনই। মেন্টরের সুপারিশ আমাকে কেবল একটি সুযোগের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিল; এর পরের মূল্যায়ন পরীক্ষা, উপস্থাপন ও সাক্ষাৎকার পর্ব—প্রতিটি ধাপই আমাকে সম্পূর্ণ নিজের যোগ্যতা ও প্রস্তুতি দিয়ে অতিক্রম করতে হয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমতে, চূড়ান্তভাবে আমি বাংলালিংকে যোগ দেয়ার সুযোগ পাই। এ অভিজ্ঞতা থেকে আমার সবচেয়ে বড় শিখন হলো সামাজিক পেশাদারি মাধ্যম কেবল চাকরি খোঁজার ওয়েবসাইট নয়, এটি মূলত নেটওয়ার্কিং ও পেশাদার সম্পর্ক গড়ার জায়গা। কাউকে সরাসরি ‘একটা সুপারিশ বা চাকরি দেন’ বললেই কাজ হয় না। আগে নিজেকে এমন একজন যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, যার ওপর ভিত্তি করে অন্য কেউ নিজের সুনাম ও বিশ্বাস ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন।

আরও