তবে সেই প্রচলিত পথের বাইরে ভিন্ন এক সম্ভাবনার সন্ধান করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন। টিউশনির পেছনে সময় ব্যয় না করে মাত্র ১০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করেন শাড়ি ও দেশীয় পোশাকের ক্ষুদ্র ব্যবসা। অল্প সময়ের ব্যবধানে সেই ছোট্ট উদ্যোগই আজ লাখ টাকার বেশি পুঁজির ব্যবসায় পরিণত হয়েছে, যা তাকে শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি একজন সফল তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে।
শুধু আয় নয়, নিজের জেলার ঐতিহ্যকেও নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়াই ছিল তার স্বপ্ন। সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পের শাড়ি, গামছা ও লুঙ্গি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই শুরু করেন বিক্রি। ক্লাস শেষে বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বসে তিনি পণ্য বিক্রি করেন। সহপাঠী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরাই তার সবচেয়ে বড় ক্রেতা ও অনুপ্রেরণা।
ইসমাইল বলেন, ‘পড়ালেখার পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশনি পাওয়া অনেক কঠিন। তাই আমি ভাবলাম, টিউশনির পেছনে না ছুটে ভিন্ন কিছু করা যায় কিনা। সেখান থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার চিন্তা আসে।’
সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পকে ঘিরেই তার ব্যবসার পরিকল্পনা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমার বাড়ি সিরাজগঞ্জে। সিরাজগঞ্জ পোশাক ও তাঁতশিল্পের জন্য বিখ্যাত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করেন। তাই ভাবলাম, নিজের জেলার ঐতিহ্যকে সবার কাছে তুলে ধরা যায়। সেই ভাবনা থেকেই সিরাজগঞ্জ থেকে শাড়ি, গামছা ও লুঙ্গি এনে ক্যাম্পাসে বিক্রি শুরু করি।
ব্যবসার পাশাপাশি পড়াশোনা, দুই দায়িত্বই সমান গুরুত্ব দিয়ে সামলাচ্ছেন তিনি। ক্লাস শেষ হওয়ার পর পরই শুরু হয় তার আরেকটি কর্মদিবস। বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত সময় দেন ব্যবসায়। তার মতে, সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনাই এ পথচলার সবচেয়ে বড় শক্তি।
বর্তমানে ইসমাইল শুধু একজন শিক্ষার্থী নন, তিনি মতিহার হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্যও। সাংগঠনিক দায়িত্ব, একাডেমিক ব্যস্ততা এবং ব্যবসা, তিনটি ক্ষেত্রেই ভারসাম্য বজায় রেখে এগিয়ে চলছেন তিনি।