আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে দ্রুত এগোচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

দুটি র‍্যাংকিংয়েই দেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বিগত বছরের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।

উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অন্যতম স্বীকৃত র‍্যাংকিং হিসেবে বিবেচনা করা হয় টাইমস হায়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং ও কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং। দুটি র‍্যাংকিংয়েই দেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বিগত বছরের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। বেশকিছু সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারলেও অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই বিগত বছরের তুলনায় র‍্যাংকিংয়ে পিছিয়ে পড়ছে। শীর্ষ অবস্থানে উঠে আসছে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়।

সম্প্রতি প্রকাশিত টাইমস হায়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং ২০২৭-এ ১১৮টি দেশের ২ হাজার ২৯৭টি বিশ্ববিদ্যালয়কে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এ র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। বিভিন্ন সূচক ব্যবহার করে শিক্ষার মান, গবেষণা পরিবেশ, গবেষণা শ্রেষ্ঠত্ব, ইন্ডাস্ট্রি সংযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সম্ভাবনা—এ গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি ক্ষেত্রে টাইমস হায়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‍্যাংকিং করে থাকে।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর (পাবলিক ও প্রাইভেট) মধ্যে যৌথভাবে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে মোট চারটি বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে তিনটিই প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি আর মাত্র একটি পাবলিক ইউনিভার্সিটি। বৈশ্বিক র‍্যাংকিংয়ে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ই ৮০১ থেকে ১০০০ ব্যান্ডে অবস্থান করছে। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি), ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ) যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছে। এ ব্যান্ডে অবস্থান নেই ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট)। র‍্যাংকিংয়ে বুয়েট গত বছরের অবস্থান ধরে রাখলেও পিছিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

তালিকায় ১০০১ থেকে ১২০০ র‍্যাংকে রয়েছে যথাক্রমে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। ২০২৬ সালের র‍্যাংকিংয়েও বাকৃবি, বুয়েট, ব্র্যাক এবং রাবি এ ব্যান্ডে অবস্থান ছিল অর্থাৎ এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গত বছরের অবস্থান ধরে রেখেছে। টাইমস হায়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং ২০২৬-এ ঢাবির অবস্থান ৮০১-১০০০ ব্যান্ডে থাকলেও এ বছর এক ধাপ অবনমন হয়েছে।

১২০১ থেকে ১৪০০ র‍্যাংকে যৌথভাবে অবস্থান করছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। এছাড়া ১৪০১ থেকে ১৬০০ র‍্যাংকে যৌথভাবে রয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। ১৮০১-২০০০ র‍্যাংকে রয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ও মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি।

এছাড়া র‍্যাংকিংয়ে অংশ নিলেও মূল র‍্যাংক অর্জনের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করায় তালিকায় স্থান পায়নি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (এইউডব্লিউ), চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু), ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ), গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (জিইউবি), শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি), স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এসইউবি), ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব), উত্তরা ইউনিভার্সিটি, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ডব্লিউইউবি)।

র‍্যাংকিংয়ের নিয়ম অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠান সব তথ্য ও উপাত্ত জমা দেয়, কিন্তু চূড়ান্ত সংখ্যামূলক র‍্যাংক পাওয়ার প্রাথমিক শর্ত পূরণের প্রক্রিয়ায় থাকে, তাদের ‘রিপোর্টার’ তালিকায় রাখা হয়। এটি বৈশ্বিক র‍্যাংকিং প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।

আরও