ঠিক তার পরই বৈশ্বিক তালিকায় ১১তম স্থান নিয়ে এশিয়ার দ্বিতীয় সেরা হিসেবে নিজের অবস্থান অক্ষুণ্ন রেখেছে চীনের ইউনিভার্সিটি অব হংকং। এশিয়ায় তৃতীয় ও বিশ্বে ১২তম অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি (এনটিইউ)।
এশিয়ার শীর্ষ ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় সর্বোচ্চ আধিপত্য বজায় রেখেছে চীনের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। চীনের বিখ্যাত পিকিং ইউনিভার্সিটি, সিনহুয়া ইউনিভার্সিটি ও চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকং বিশ্বসেরা শীর্ষ ২০-এর ভেতর অবস্থান ধরে রেখে এশিয়ার যথাক্রমে চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থানটি নিজেদের দখলে রেখেছে। এছাড়া সপ্তম, অষ্টম ও নবম স্থানেও রয়েছে যথাক্রমে চীনের ফুদান ইউনিভার্সিটি, দ্য হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ও সাংহাই জিয়াও টং ইউনিভার্সিটি। তালিকায় দশম স্থানে জায়গা পেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
কিউএস ২০২৭ সালের মূল্যায়ন পদ্ধতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উচ্চ শিক্ষার এ বৈশ্বিক মানদণ্ডে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে গবেষণা ও আবিষ্কার সূচকটি। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ একাডেমিক খ্যাতি এবং ২০ শতাংশ সাইটেশন। এশিয়ার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর কিংবা চীনের পিকিং ইউনিভার্সিটি মূলত তাদের দীর্ঘদিনের একাডেমিক সুনামের ওপর ভর করেই এ সূচকে নিজেদের শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে, সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের মৌলিক গবেষণায় এবং আন্তর্জাতিক জার্নালে নিজেদের সাইটেশন ইমপ্যাক্ট বাড়িয়ে বিশ্বমঞ্চে সাড়া ফেলেছে।
কেবল গবেষণায় সমৃদ্ধ হলেই চলে না, সেই গবেষণার ফল আন্তর্জাতিক মহলে কতটা সমাদৃত এবং ক্যাম্পাসটি বৈশ্বিক শিক্ষার্থীদের জন্য কতটা উন্মুক্ত, তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এখানেই বাজিমাত করেছে চীন ও সিঙ্গাপুরের বিশ্ববিদ্যালয়। কিউএস র্যাংকিংয়ের ‘গ্লোবাল এনগেজমেন্ট’ বা বৈশ্বিক সম্পৃক্ততা সূচক আন্তর্জাতিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্কের ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করা হয়। এ সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চীন ও সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উন্মুক্ত সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিকীকরণের কারণে ৯০-এর ওপর স্কোর তুলে সরাসরি টেক্কা দিয়েছে নামি-দামি মার্কিন ও ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে। পাশাপাশি বৈশ্বিক করপোরেট ও নিয়োগকর্তাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষ স্কোর তুলে নিয়েছে সিঙ্গাপুরের এনইউএস এবং চীনের সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়। মূলত ল্যাবরেটরির উচ্চমানের গবেষণা এবং ক্লাসরুমে বৈশ্বিক বৈচিত্র্যের এ যুগলবন্দিতেই এশিয়ার উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বিশ্বমঞ্চে নতুন পরিচয়ে আবির্ভূত হচ্ছে।