তবে অনেক শিক্ষার্থীর মনেই প্রথম প্রশ্ন আসে—আমার তো কোনো প্রফেশনাল কাজের অভিজ্ঞতা নেই, আমি প্রোফাইলে কী লিখব? বাস্তবতা হলো করপোরেট দুনিয়ায় ইন্টার্নশিপ বা এন্ট্রি-লেভেল পদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তারা সবসময় আপনার পূর্ব অভিজ্ঞতা খোঁজেন না; বরং তারা দেখতে চান আপনার শেখার মানসিকতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং একাডেমিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সক্রিয়তা। অভিজ্ঞতা ছাড়াও একটি আকর্ষণীয় লিংকডইন প্রোফাইল তৈরি করা যায়।
পেশাদার ছবি ও ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যানার: প্রথমেই একটি পেশাদার ছবি ও ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যানার যুক্ত করার মাধ্যমে প্রোফাইলের দৃশ্যমানতা বহু গুণ বাড়িয়ে নেয়া সম্ভব। সেলফি বা ভ্রমণের ছবি না দিয়ে ক্যাজুয়াল বা ফরমাল পোশাকে ভালো আলোয় তোলা হাস্যোজ্জ্বল সোজা চেহারার ছবি ব্যবহার করা উচিত, যার ব্যাকগ্রাউন্ড থাকবে পরিষ্কার ও সাদামাটা। আর ক্যানভা ব্যবহার করে নিজের পড়ালেখার বিষয়, আগ্রহের ক্ষেত্র বা প্রিয় কোনো উক্তি দিয়ে আকর্ষণীয় ব্যানার তৈরি করে নেয়া যায়।
আকর্ষণীয় হেডলাইন তৈরি: দ্বিতীয় ধাপে নজর দিতে হবে একলাইনের আকর্ষণীয় হেডলাইনের দিকে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী কেবল ‘Student at XYZ University’ লিখে রাখেন, যা ভিড়ের মধ্যে আলাদা হতে সাহায্য করে না। এর বদলে শিক্ষার বিষয়, নিজের দক্ষতা ও ভবিষ্যতের লক্ষ্য মিলিয়ে যেমন ‘Economics Undergraduate | Data Analysis Enthusiast | Seeking Opportunities in Market Research’ টাইপের স্পষ্ট বক্তব্য উপস্থাপন করা ভালো।
গল্প দিয়ে সাজান ‘অ্যাবাউট’ সেকশন: সুন্দর একটি গল্প দিয়ে সাজাতে হবে অ্যাবাউট বা সামারি সেকশন। এখানে নিজের প্যাশন ও অর্জনের গল্প বলা উচিত। তিন অনুচ্ছেদে ভাগ করে প্রথম অংশে পড়ার বিষয় ও আগ্রহ, দ্বিতীয় অংশে ক্যাম্পাসে আয়োজন করা বড় কোনো কাজ বা কেস স্টাডির কথা এবং শেষ অংশে ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের সঙ্গে যোগাযোগের একটি আমন্ত্রণ লিখে রাখা যায়।
ক্লাবের কাজ ও স্বেচ্ছাসেবী অভিজ্ঞতা: অভিজ্ঞতার ঘরটি সমৃদ্ধ করতে তুলে ধরতে হবে ক্লাবের কাজ ও স্বেচ্ছাসেবী অভিজ্ঞতা। কোনো করপোরেট চাকরি না থাকলেও ক্যাম্পাসের রক্তদান কর্মসূচি, ডিবেটিং ক্লাব, কালচারাল ফেস্ট বা ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার কাজগুলোই মূল শক্তি। শুধু পদের নাম না লিখে ‘১৫ জনের টিম পরিচালনা করে এক হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে জাতীয় বিজনেস ফেস্ট আয়োজন করেছি’—এমন ফলাফলভিত্তিক তথ্য দিলে তা বেশি কার্যকর হয়।
একাডেমিক প্রজেক্ট ও অ্যাসাইনমেন্ট: পঞ্চম ধাপে নিয়ে আসতে হবে একাডেমিক প্রজেক্ট ও অ্যাসাইনমেন্টের বিবরণ। শ্রেণীকক্ষের সেরা টার্ম পেপার, ফিল্ডওয়ার্ক, সার্ভে বা কেস স্টাডিগুলো গবেষণামূলক দক্ষতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। ‘প্রজেক্ট’ সেকশনে কাজের বিষয়বস্তু, নিজের ভূমিকা ও ফলাফল সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় লেখা যায় এবং কোনো প্রেজেন্টেশন বা রিপোর্ট থাকলে তা ‘ফিচারড’ সেকশনে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
স্কিল যুক্ত করা ও এনডোর্সমেন্ট: কমপক্ষে ৫-১০টি প্রাসঙ্গিক সফট ও হার্ড স্কিল প্রোফাইলে যুক্ত করে তা সহপাঠী বা শিক্ষকদের দিয়ে এনডোর্স করিয়ে নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এটি প্রোফাইলের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বাড়িয়ে দেয় এবং নিয়োগকর্তাদের কাছে প্রার্থীর দক্ষতার স্পষ্ট প্রমাণ তুলে ধরে।
নিয়মিত সক্রিয়তা ও কনটেন্ট শেয়ারিং: একটি সুন্দর প্রোফাইল বানিয়ে ফেলে না রেখে সপ্তাহে অন্তত দু-তিনদিন সক্রিয় থাকা এবং নিয়মিত কনটেন্ট শেয়ার করা প্রয়োজন। ক্লাসে করা কোনো প্রেজেন্টেশন, সাম্প্রতিক পড়া ভালো একটি বইয়ের রিভিউ কিংবা পছন্দের সেক্টরের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পোস্টে অর্থপূর্ণ মন্তব্য করার মাধ্যমে নিজের উপস্থিতি জানান দেয়া সম্ভব।