গবেষণায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

এশিয়ার সেরা ১০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বাংলাদেশের ১২ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

১৯৯২ সালে দেশে প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু। গত তিন দশকে দেশের উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিধি ক্রমেই বিস্তার লাভ করছে।

১৯৯২ সালে দেশে প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু। গত তিন দশকে দেশের উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিধি ক্রমেই বিস্তার লাভ করছে। বর্তমানে দেশে মোট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১৪। তবে একাডেমিক কার্যক্রম চলমান আছে ১০৫টিতে। ইউজিসির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৪১৪ জন। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান নিশ্চিতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষ থেকেও নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর প্রতিফলন দেখা গেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়েও। যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস (কিউএস) প্রতি বছর বিশ্বের উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোর নানা বিষয়ে র‌্যাংকিং প্রকাশ করে। সম্প্রতি ‘এশিয়া ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং ২০২৬’ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এশিয়ার ১ হাজার ৫২৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই তালিকায় পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের মোট ৪৬টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। তালিকায় দেশের পাবলিক-প্রাইভেটসহ সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম অবস্থানে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং দ্বিতীয় অবস্থানে আছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। এ তালিকায় প্রথম ৫০০-এর মধ্যে চারটি এবং ১০০০-এর মধ্যে স্থান করে নিয়েছে দেশের ১২ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তালিকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম অবস্থানে আছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। কিউএস র‌্যাংকিংয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অবস্থান ১৪৯। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। র‌্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ২২১। তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে আছে যথাক্রমে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি। র‌্যাংকিংয়ে এ দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান যথাক্রমে ২৬০ ও ৪৯১। র‍্যাংকিংয়ে ৫১৮ এবং ৫৭৪তম অবস্থান নিয়ে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যথাক্রমে আহছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সপ্তম ও অষ্টম অবস্থানে আছে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। এ দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান যথাক্রমে ৬৪৪ ও ৬৫১। এছাড়া সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি ৭৪১ থেকে ৭৫০-এর মধ্যে, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ৭৭১ থেকে ৭৮০-এর মধ্যে, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ৭৮১ থেকে ৭৯০-এর মধ্যে এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক র‌্যাংকিংয়ে ৯০১ থেকে ৯৫০-এর মধ্যে স্থান লাভ করেছে। কিউএস র‌্যাংকিংয়ে তথ্য অনুযায়ী, বিগত কয়েক বছরে এদের কয়েকটি আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। কিউএস আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ২০২২ সালে অবস্থান ছিল ১০০১ থেকে ১২০০-এর মধ্যে আর সর্বশেষ প্রকাশিত র‌্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ৯৫১ থেকে ১০০০-এর মধ্যে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অবস্থান ২০২২ সালে ছিল ১২০০ থেকে ১৪০০-এর মধ্যে আর চলতি বছরে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ১০০১ থেকে ১২০০-এর মধ্যে। এ বিষয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, ‘র‍্যাংকিং উন্নত করতে আমরা হাই-ইমপ্যাক্ট পাবলিকেশন, সাইটেশন বাড়ানো, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আকর্ষণ এবং ইন্ডাস্ট্রি-লিংকড গবেষণা জোরদার করছি। র‍্যাংকিংয়ে এর একটা ইমপ্যাক্ট আছে। টাইমসের র‍্যাংকিংয়ে আমরা বরাবর দেশসেরা অবস্থানে থাকছি। এবার কিউএস র‍্যাংকিংয়ে আমরা এশিয়ার ১৪৯তম বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছি। এশিয়ায় হাজারো বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। প্রথমবার দেড়শর মধ্যে স্থান করে নিয়েছে এনএসইউ। এতেই বোঝা যায় আমাদের গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রম বিকশিত হচ্ছে এবং বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠান ও গবেষকের কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ বলেন, ‘দেশের বেসরকারি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় খুব ভালো করছে। তারা শিক্ষার মান, গবেষণাসহ সব বিষয়েই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাদের শিক্ষার্থীরা ভালো করছে। তবে কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তুলনামূলক পিছিয়ে আছে। তাদের নিয়েই আমরা চিন্তিত। তাদের কীভাবে সামনে এগিয়ে আনা যায় সে বিষয় নিয়ে কমিশন কাজ করছে।’

আরও