ক্যাম্পাসে বিশ্বকাপ উন্মাদনা

ক্যাম্পাসের দেয়ালে কিউবিজমে মূর্ত হলেন মেসি

এটিএম মাহফুজ

শিক্ষার্থী, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্বকাপজয়ী ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির প্রতিচ্ছবি ভিন্ন রূপে এবার দেখা গেল যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি)।

প্রচলিত বাস্তবধর্মী প্রতিকৃতির পরিবর্তে কিউবিজমের রঙ, রেখা ও জ্যামিতিক বিন্যাসে ফুটে উঠেছে তার মুখাবয়ব। যবিপ্রবির দেয়ালে আঁকা এ চিত্রকর্মটি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য শিল্পভাবনা, সৃজনশীলতা ও সমকালীন নন্দনতত্ত্বের এক অনন্য প্রকাশ।

কোনো প্রতিকৃতি আঁকতে সাধারণত শিল্পীরা বাস্তবতার কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করেন। কিন্তু এ দেয়ালচিত্রে ভিন্ন রঙের জ্যামিতিক খণ্ড, তীক্ষ্ণ রেখা এবং বিমূর্ত বিন্যাস মিলিয়ে সৃষ্টি হয়েছে। লাল ইটের দেয়ালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীর তুলির আঁচড়ে ধীরে ধীরে প্রাণ পেয়েছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকার মুখ। এ প্রতিকৃতির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো কিউবিজমের প্রয়োগ। বিশ শতকের শুরুতে পাবলো পিকাসো ও জর্জেস ব্রাক যে শিল্পধারার সূচনা করেছিলেন, বাস্তব আকৃতিকে জ্যামিতিক খণ্ডে বিভক্ত করে নতুন নান্দনিকতা সৃষ্টি করাই এ ধারার মূল দর্শন। মূলত মেসির প্রতিচ্ছবিকে ভিন্নতা দেখানোর জন্য বিভিন্ন রঙ দিয়ে কিউবিজম ব্যবহার করেছেন যবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা।

পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রাহিম অনেক আগে থেকেই দেয়ালচিত্র করেন। মেসিকে আইডল ভাবনার প্রতিফলন থেকেই এ উদ্যোগ নেন তিনি। এ প্রসঙ্গে রাহিম বলেন, আর্জেন্টিনার পতাকা ও বার্সেলোনার লোগোর রঙের ছোঁয়া দেয়ার চেষ্টা করেছি, যাতে কিউবিজমটা ফুটে ওঠে। মূলত মিক্সড শিল্পধারা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। অনেকে আবেগাপ্লুত হতে পারে, কারণ মেসির এটাই শেষ বিশ্বকাপ। তাই সবার মধ্যে মেসিকে জাগ্রত রাখতে কাজটি করা। সবাই দেখছে, ছবি তুলছে, ফেসবুকে পোস্ট করছে এগুলো আমার আত্মতৃপ্তি।

মেসি ভক্ত আরেক শিক্ষার্থী শুভাশীষ দাশ দীপ্ত জানান, আবহাওয়া একটু খারাপ ছিল, যার জন্য দুদিন সময় লেগেছে। মূল আর্টিস্ট ছিল রাহিম। আমি ও মার্কেটিং বিভাগের নাহিদ আহমেদ জিসান সহযোগী হিসেবে কাজ করেছি। রঙ কেনার জন্য সাহায্য পেয়েছি যবিপ্রবির আর্জেন্টিনার ভক্ত কিছু বন্ধু ও বড় ভাইয়ের থেকে। মূলত মেসিকে ভালোবাসা থেকেই চিত্রটি করা, শুধু রঙতুলিতে খরচ হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার টাকা। নাহিদ আহমেদ জিসান বলেন, কাজটি করে খুব খুশি। সবাই এসে ছবি তুলছে। এটা দেখে আরো ভালো লাগছে। আমরা চাই আমদের কাজটি মেসি পর্যন্ত পৌঁছে যাক।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এমন শিল্পকর্ম শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, বরং এটি শিক্ষার্থীদের শিল্পচর্চা, সৃজনশীল চিন্তা ও চেতনা বোধকে সমৃদ্ধ করে।

আরও