রেজাল্ট খারাপ হলে কী করবেন

মিতা মণ্ডল ও সুমাইয়া হাবীব

প্রথমেই নিজেকে প্রশ্ন করতে পারেন যে আপনার জীবনের লক্ষ্যগুলো কী? লক্ষ্যগুলোকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যেতে পারে।

ফলাফল খারাপ হলে কী করবেন, সেটা অনেকটাই নির্ভর করে এ বিষয়ে পরিবর্তন আনতে আগ্রহী কিনা তার ওপর। কিছু করতে চান কিনা, তাও বুঝতে পারছেন না? দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন! তাহলে নিজেকে প্রশ্ন করতে পারেন যে রেজাল্টের বর্তমান অবস্থার কারণে কী আপনার আরো অন্যান্য কোনো সমস্যা তৈরি হচ্ছে? আপনার দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে? যেমন—পারস্পরিক সম্পর্ক (পারিবারিক, বন্ধু-বান্ধব, রোমান্টিক ইত্যাদি), নিজের যত্ন, শখের কাজ—এসব দিক, যা আপনি চাইলেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না?

এর উত্তরগুলো কি নির্দেশ করছে যে পরীক্ষার খারাপ ফল আপনার জীবনে কোনো প্রভাব ফেলেছে কিনা? তাহলে আপনি পরীক্ষার ফল নিয়ে ভাবতে পারেন। 

প্রথমেই নিজেকে প্রশ্ন করতে পারেন যে আপনার জীবনের লক্ষ্যগুলো কী? লক্ষ্যগুলোকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। যেমন—শিক্ষাগত, পেশাগত, অর্থনৈতিক, পারস্পরিক সম্পর্ক, ধর্মীয়/আত্মিক, শখ ইত্যাদি। এরপর জীবনের এ দিকগুলোর লক্ষ্যগুলো কোন সময়ের মধ্যে তা পূরণ করতে চান, সময়সহ উল্লেখ করুন। লক্ষ্যগুলো পূরণ করার জন্য প্রয়োজনীয় আরো ছোট ছোট লক্ষ্য তৈরি করুন। সেই ছোট লক্ষ্যগুলো পূরণ করার জন্য কর্মপরিকল্পনা তৈরি করুন।

সে অনুযায়ী দৈনন্দিন এবং বার্ষিক রুটিন তৈরি করুন ও তা মেনে চলার চেষ্টা করুন। এখন খেয়াল করুন, আপনার শিক্ষাগত লক্ষ্যটি জীবনের আর কোন কোন দিকের সঙ্গে জড়িত। যেমন—হতে পারে আপনার শখ বিষয়ক যে চূড়ান্ত লক্ষ্য, তা পূরণ করতে হয়তো আপনার শিক্ষাগত লক্ষ্য সহায়তা করবে। এমন আরো অনেক লক্ষ্য হয়তো শিক্ষাগত লক্ষ্যের ওপর নির্ভরশীল অথবা এটি অন্যান্য লক্ষ্যে পৌঁছাতে আপনাকে সহায়তা করবে। এভাবে কাজ করলে আপনি পড়াশোনা করার প্রয়োজনীয়তাটা ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। যার ফলে পড়াশোনার আগ্রহ, মনোযোগ দুটোই বাড়বে।

পড়াশোনার ব্যর্থতাকে আপনি কীভাবে সংজ্ঞায়িত করেন, সেটা কি কখনো খেয়াল করেছেন? একবার মার্কস কম পেলেই কি আপনি ভাবা শুরু করেন যে আপনাকে দিয়ে কিছু হবে না, আমার ভবিষ্যৎ অন্ধকার, আমি ব্যর্থ। এ ধরনের নেতিবাচক চিন্তা আপনার আসলে পড়াশোনার মনোযোগ ও আগ্রহ দুটোকেই ব্যাহত করবে। এ চিন্তাগুলো আপনার নিজের প্রতি বিশ্বাস কমিয়ে ফেলার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার যাত্রাটাকে আরো কঠিন করে তুলবে।

উপরোক্ত বিষয়গুলো ছাড়াও আরো বিভিন্ন কারণে ফল খারাপ হতে পারে। কেন ফল খারাপ হচ্ছে, তা চিহ্নিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব, সম্পর্কের টানাপড়েন, অর্থনৈতিক চাপ এবং পড়াশোনায় ভালো ফল পাওয়ার জন্য পারিবারিক-সামাজিক চাপ, পুষ্টির ঘাটতি—এগুলো অন্যতম প্রধান কারণ।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অত্যধিক ব্যবহার আজকাল মহামারী আকার ধারণ করেছে। এটা মনোযোগের ঘাটতি, অস্থিরতা, পড়াশোনার জন্য সময়স্বল্পতা তৈরি করে, যা পড়াশোনাকে ব্যাহত করে। এটাকে সামলানোর জন্য দৈনিক রুটিন করা যেতে পারে, যেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পড়াশোনার জন্য আলাদাভাবে নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করা যেতে পারে।

একাডেমিক এ যাত্রাপথটি যদি আপনার কাছে একা চলাটা কঠিন হয়ে যায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং শিক্ষাসহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে যখন দেখবেন কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না বা মনমতো ফল পাচ্ছেন না, তার ওপর এসব ব্যাপারগুলো আপনার দৈনন্দিন জীবন, পারস্পরিক সম্পর্ক, শারীরিক বিষয়গুলোতে নেতিবাচক প্রভাব ফেললে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীদের সহায়তা নিতে পারেন।

লেখকদ্বয় সিনিয়র সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলর, মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোবৈজ্ঞানিক কাউন্সেলিং সেন্টার, ইউআইইউ

আরও