কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং ২০২৭

দেশসেরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বেসরকারিতে শীর্ষে নর্থ সাউথ

গবেষণাগারের আলো-আঁধারি আর বৈশ্বিক সুনামের দাঁড়িপাল্লায় কার অবস্থান কেমন, তা আরো একবার জানান দিল ‘কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাকিং-২০২৭’।

কিন্তু আন্তর্জাতিক এ মর্যাদাপূর্ণ র‍্যাংকিংয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের নামগুলো যখন উঠে আসে, তখন চেনা উল্লাসের চাদরটা এক নিমেষেই খসে পড়ে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার এ লড়াইয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পারফরম্যান্স এবার এক দোলাচলের গল্প বলছে; যেখানে স্থবিরতার দীর্ঘশ্বাসের সমান্তরালে রয়েছে গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের ওপরে ওঠার মরিয়া চেষ্টা।

ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) দেশীয় তালিকায় তার শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও বৈশ্বিক সূচকে কিছুটা পিছিয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং বেসরকারি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ) ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে নিজেদের অবস্থানে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।

বিশ্বের ১ হাজার ৫০৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর এ র‌্যাংকিং তৈরি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামগ্রিক মান মূল্যায়নের জন্য বর্তমানে মোট নয়টি সূচক ব্যবহার করে, যার প্রতিটিতে সর্বোচ্চ স্কোর ১০০। সূচকগুলোর গড় স্কোরের ভিত্তিতে চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারিত হয়।

কিউএস ২০২৭-এর ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বৈশ্বিক তালিকায় ৬০০তম অবস্থানে থেকে দেশের ভেতর প্রথম স্থান ধরে রাখলেও ২০২৬ সালের (৫৮৪তম) তুলনায় এবার পিছিয়েছে। ঢাবির এ অবনমনের পেছনে আন্তর্জাতিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত এবং গবেষণার সাইটেশন সূচকে কাঙ্ক্ষিত স্কোর না পাওয়া বড় কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিপরীতে দেশীয় তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বুয়েট এক লাফে ৭৬১-৭৭০ ব্যান্ড থেকে এগিয়ে এবার ৭১১-৭২০ ব্যান্ডে জায়গা করে নিয়েছে। প্রকৌশল ও প্রযুক্তিভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা এবং ‘সাইটেশন পার ফ্যাকাল্টি’ সূচকে বুয়েটের স্কোর বৃদ্ধির ফলেই এ বড় অগ্রগতি।

বেসরকারি খাতের উচ্চ শিক্ষায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি তাদের আধিপত্য বজায় রেখে ৯৫১-১০০০ ব্যান্ড থেকে একধাপ এগিয়ে এবার ৯০১-৯৫০ ব্যান্ডের মধ্যে প্রবেশ করেছে। নিয়োগকর্তাদের কাছে গ্র্যাজুয়েটদের গ্রহণযোগ্যতা বা ‘এমপ্লয়ার রেপুটেশন’ এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষকদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে প্রতিষ্ঠানটি দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় ভালো স্কোর করেছে।

এবারের র‍্যাংকিংয়ে আরেকটি বড় চমক দেখিয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। প্রতিষ্ঠানটি ১২০১-১৪০০ ব্যান্ড থেকে এক লাফে ১০০১-১২০০ ব্যান্ডের তালিকায় উঠে এসেছে, যা তাদের ধারাবাহিক একাডেমিক মানোন্নয়নের ইঙ্গিত দেয়। একই ব্যান্ডে (১০০১-১২০০) নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

এছাড়া ১৪০১+ ব্যান্ডের দীর্ঘ তালিকায় এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) বিগত বছরের (১২০১-১৪০০) তুলনায় অবনমন ঘটে ১৪০১+ ব্যান্ডে নেমে গেছে। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি), চুয়েট ও কুয়েট ১৪০১+ ব্যান্ডে অপরিবর্তিত রয়েছে।

কিউএস র‍্যাংকিংয়ের প্রধান মানদণ্ডগুলোর মধ্যে একাডেমিক সুনাম ও গবেষণা সাইটেশনে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কিছুটা ভালো করলেও বাকি সূচকগুলোতে বৈশ্বিক গড় স্কোরের চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষক ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর অনুপাত সূচকে বাংলাদেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে রয়েছে। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সক্ষমতার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির কারণে এ সূচকে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

আরও