প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা আর সহকর্মীদের সঙ্গে বন্ধুত্বের বন্ধন আরো দৃঢ় করতে সম্প্রতি চবি রেলক্রসিং এলাকার একটি টার্ফে আয়োজন করা হয় চবিসাস ফুটবল টুর্নামেন্টের। ছোট সেই টার্ফটিই যেন সেদিন রূপ নিয়েছিল এক টুকরো বিশ্বকাপের মঞ্চে।
চবিসাসের সদস্যদের নিয়ে গঠিত তিনটি দলের নেতৃত্বে ছিলেন সমিতির সভাপতি, সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। সভাপতির দল মাঠে নামে আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে, আর সাধারণ সম্পাদকের দল ধারণ করে ব্রাজিলের হলুদ-সবুজ রঙ। যেন মেসি-নেইমারদের মাঠের দ্বৈরথের ছায়া এসে পড়েছিল টার্ফে।
টুর্নামেন্টে সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের মেলবন্ধন ছিল দেখার মতো। আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নামেন চবিসাসের সাবেক সভাপতি ইমরান হোসাইন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমাম ইমু। অন্যদিকে, ব্রাজিলের ডেরায় যোগ দেন চবির ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন। শিক্ষক, সাবেক ও বর্তমান সাংবাদিকদের এ বন্ধুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ পুরো আয়োজনকে করে তোলে উৎসবমুখর।
টানটান উত্তেজনার লিগ পর্ব শেষে ফাইনালের মঞ্চে মুখোমুখি হয় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী—সভাপতির আর্জেন্টিনা ও সেক্রেটারির ব্রাজিল। বাঁশির শব্দে শুরু হওয়া ফাইনাল ম্যাচে প্রথমার্ধ থেকেই চলে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। তবে নির্ধারিত ২৫ মিনিট এবং অতিরিক্ত আরো ৬ মিনিটেও কোনো দল গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারের প্রথম ধাপে তিন শটের লড়াইয়েও দুই দল সমতায় থাকে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে শুরু হয় সাডেন ডেথ। ব্রাজিলের প্রথম শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও আর্জেন্টিনার শটটি সরাসরি জড়িয়ে যায় জালে। চাপ সামলাতে না পেরে ব্রাজিলের দ্বিতীয় শটটিও ব্যর্থ হলে, দ্বিতীয় শট নেয়ার প্রয়োজনই হয়নি আর্জেন্টিনার। রেফারি চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমানের শেষ বাঁশিতে চ্যাম্পিয়ন উল্লাসে মেতে ওঠে সভাপতির দল আর্জেন্টিনা।
খেলা শেষে ট্রফি হাতে বিজয়ী দলের উল্লাস আর ক্যামেরার ফ্রেমে সুন্দর মুহূর্তগুলো ধরে রাখার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এক আনন্দঘন সন্ধ্যা। চবিসাসের এ আয়োজন হয়তো কোনো বড় স্টেডিয়ামে হয়নি, কিন্তু ফুটবলকে উপলক্ষ করে তৈরি হওয়া এ সৌহার্দ্য ও নিটোল আনন্দই ছিল টুর্নামেন্টের আসল জয়।