ইউআরপি

নগর পরিকল্পনা শিক্ষায় পথিকৃৎ বুয়েট

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ১৯৬২ সালে স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের অধীনে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (ইউআরপি) বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ১৯৬২ সালে স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের অধীনে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (ইউআরপি) বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাথমিকভাবে স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিকল্পনা বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করা হতো। কয়েক বছর পর, বিভাগটি নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনায় মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালু করে। তবে ১৯৬৮ সালে আটজন স্নাতক শিক্ষার্থী নিয়ে বিদেশ থেকে তিনজন প্রশিক্ষিত শিক্ষকের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়। প্রথম ব্যাচের সাতজন ১৯৭০ সালের মধ্যে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তবে তারা ১৯৭২ সালে স্নাতক হন। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৬ সালের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত ব্যবধানে, বিভাগটি পরিকল্পনাবিদ তৈরিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখে এবং ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত মোট ১৩৬ জন পরিকল্পনাবিদ তৈরি করে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বাড়ায় ১৯৯৬ সালে চার বছরের স্নাতক এবং পিএইচডি ডিগ্রি চালু করে। বুয়েটে মাস্টার্স পর্যায়ে বিভাগটির যাত্রা শুরু করলেও ১৯৯১ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আরবান রুরাল প্ল্যানিং ডিসিপ্লিন নামে স্নাতক পর্যায়ে প্রোপ্রামটি প্রথম চালু করে।

যোগ্য পরিকল্পনাবিদ তৈরির লক্ষ্যে বর্তমানে বাংলাদেশের সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ রয়েছে। এর মধ্যে চারটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়—বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়—জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়—পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ রয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর পাস করে বের হচ্ছে প্রায় চারশ শিক্ষার্থী।

নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থীরা মানুষের বসতস্থান, পরিবেশ, সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনীতি সবদিক থেকে পরিকল্পনা করেন। শহর, গ্রাম, পরিবহন, ঘর-বাড়ি, পরিবেশ ও উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করেন। সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধান, চাকরি সৃষ্টি, দারিদ্র্য কমানো, সম্পদ উন্নয়ন ও সরকারের নীতিমালা নিয়ে কাজ করেন। এ বিভাগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের জীবনমান উন্নত করা, পরিকল্পনা নেয়া ও বাস্তবায়ন করা। পাশাপাশি গবেষণা ও প্রযুক্তির উন্নয়নেও মূল্যবান অবদান রাখা।

আরও