যখন সবাই এগিয়ে যাচ্ছে মনে হয়

সহপাঠীদের সঙ্গে তুলনা নয়

কেউ হয়তো আজ এগিয়ে আছে, কিন্তু তার সংগ্রামের পুরোটা আপনি দেখেননি। আবার আপনার যে ছোট ছোট অগ্রগতি, সেগুলোও হয়তো অন্য কেউ দেখছে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে হাঁটতে হাঁটতে কখনো কি মনে হয়েছে—ওর ইন্টার্নশিপ হয়ে গেছে, ওর সিজিপিএ ভালো, ও স্কলারশিপ পেয়েছে, ওর চাকরি হয়ে যাচ্ছে—আমি তাহলে কোথায়?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সহপাঠীদের সাফল্য কিংবা চারপাশের প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে আমরা অনেক সময় অজান্তেই নিজের জীবন ও অর্জনকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করি। অন্যের অগ্রগতিকে নিজের সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে দেখতে গিয়ে নিজের প্রতি হতাশা, উদ্বেগ ও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। মনোবিজ্ঞানে এ প্রবণতাকে বলা হয় সামাজিক তুলনা (সোশ্যাল কমপ্যারিসন)—অর্থাৎ অন্যের অর্জন ও অগ্রগতির সঙ্গে নিজের মূল্য ও সাফল্যকে পরিমাপ করা।

কিন্তু মনে রাখুন, আপনি অন্যের গল্পের মাঝপথ দেখছেন, নিজের গল্পের পুরোটা অনুভব করছেন।

কেউ হয়তো আজ এগিয়ে আছে, কিন্তু তার সংগ্রামের পুরোটা আপনি দেখেননি। আবার আপনার যে ছোট ছোট অগ্রগতি, সেগুলোও হয়তো অন্য কেউ দেখছে না। অন্যের গতি আপনার দেরির প্রমাণ নয়! আপনার পথ হয়তো এখনো তৈরি হচ্ছে।

তাই অন্যের পূর্ণতার সঙ্গে নিজের অধ্যায় তুলনা না করে, প্রতিদিন নিজের গল্পের একটি ভালো লাইন লিখুন।

তাহলে কী করবেন?

তুলনার বদলে তথ্য নিন

কারো সাফল্য দেখে নিজেকে ছোট না করে ভাবুন—‘ও কীভাবে করেছে, আর আমার জন্য কোন পথটি বাস্তবসম্মত?’

নিজের গতিকে সম্মান করুন

বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রেস নয়, যেখানে সবার একই সময়ে একই জায়গায় পৌঁছাতে হবে। কারো পথ দ্রুত, কারো পথ ধীর—দুটিই স্বাভাবিক।

নিজের ‘অগ্রগতির তালিকা’ তৈরি করুন

প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে নিজের অর্জনগুলোকে একটা ডায়েরিতে লিখে রাখুন, তা ছোট হলেও। —আমি কী শিখলাম? কী শেষ করলাম? কোথায় একটু ভালো হলাম? ছোট অগ্রগতিও অগ্রগতি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার সচেতন করুন

অন্যের ‘সাফল্যের ঝলক’ (হাইলাইট রিল) দেখে নিজের ‘নেপথ্যের সময়ের’ (বিহাইন্ড দ্য সিনস) সঙ্গে তুলনা করবেন না। প্রয়োজন হলে কিছু সময়ের জন্য বিরতি নিন।

নিজের জন্য সংজ্ঞা তৈরি করুন

সফলতা মানে শুধু সিজিপিএ, চাকরি বা অর্জনের তালিকা নয়। মানসিক সুস্থতা, দক্ষতা, সম্পর্ক, আত্মবিশ্বাস ও মূল্যবোধ—সবই জীবনের অংশ।

আর যখন তুলনা, উদ্বেগ বা একাডেমিক চাপ এতটাই বেড়ে যায় যে পড়াশোনা, ঘুম, সম্পর্ক বা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে—তখন একা বহন করার প্রয়োজন নেই। মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদারের সঙ্গে কথা বলুন। 

মনে রাখবেন, পেশাদারি সহায়তা নেয়া কোনো দুর্বলতা নয়, বরং নিজেকে সুস্থ রাখার সচেতন পদক্ষেপ। 

‘অন্য কেউ আগে পৌঁছে গেছে বলে আপনার যাত্রা কোনোভাবেই কম অর্থবহ হয়ে যায় না।’

লেখক: মেন্টাল হেলথ কাউন্সেলর, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)

আরও