গবেষণায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

গবেষণায় ব্যয় বাড়াচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, বেড়েছে প্রকাশনাও

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয় গবেষণাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয় গবেষণাকে। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে সামনের সারিতে রয়েছে, তাদের সবাই গবেষণা খাতে এগিয়ে রয়েছে। দেশের শিক্ষাসংশ্লিষ্টরাও দেশের উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্বারোপ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য বলছে, দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও গবেষণায় আগ্রহী হয়ে উঠছে এবং গবেষণা খাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ব্যয় বৃদ্ধি করেছে। ইউজিসির প্রকাশিত সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৩ অনুযায়ী, এ অর্থবছরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা খাতে ব্যয় করেছে মোট ১৩৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা খাতে মোট ব্যয় ছিল ৯৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয় বছরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ব্যয় বেড়েছে প্রায় দেড় গুণ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চতর ডিগ্রিধারী শিক্ষকের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০১৭ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডিধারী শিক্ষকের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৪১৬ আর বর্তমানে পিএইচডিধারী শিক্ষকের সংখ্যা ৩ হাজার ৬০৩। বর্তমানে মোট বেসরকারি শিক্ষকের ২০ দশমিক ৬১ শতাংশ পিএইচডি ডিগ্রিধারী। বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ১৭ হাজার ৪৭৯। তবে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির প্রায় অর্ধেক শিক্ষকই পিএইচডি ডিগ্রিধারী।

সাম্প্রতিক সময়ে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সামনের সারিতে উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে স্কোপাস-ইনডেক্সড গবেষণা প্রকাশনার সংখ্যা বিবেচনায় দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দ্বিতীয় এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম অবস্থানে আছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। এ ইউনিভার্সিটি থেকে ১৩০০-এরও বেশি স্কোপাস মূলত বৈজ্ঞানিক জার্নালগুলোর গুণগত মান যাচাই করে সেগুলোকে ইনডেক্সভুক্ত করে। বিশ্বব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‌্যাংকিং নির্ধারণে স্কোপাস-ইনডেক্সড জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২৫ সালে স্কোপাস-ইনডেক্সড জার্নাল, কনফারেন্স প্রসিডিংস এবং রিভিউ আর্টিকেলসহ মোট ১৮ হাজার ৬১৩টি বৈজ্ঞানিক প্রকাশনায় বাংলাদেশী গবেষকরা অবদান রেখেছেন। প্রতিষ্ঠান বিবেচনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে আছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। এছাড়া আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ চতুর্থ অবস্থানে, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি পঞ্চম, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ষষ্ঠ, আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সপ্তম, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অষ্টম, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি নবম, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ দশম, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি ১১তম, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি ১২তম, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি ১৩তম এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক ১৪তম অবস্থানে রয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীরা যাতে দেশে ও দেশের বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই সাফল্য অর্জন করতে পারেন এ কারণে তারা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। এরই অংশ হিসেবে কারিকুলামের উন্নয়ন, গবেষণায় গুরুত্ব প্রদান, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন প্রতিষ্ঠানের অ্যাক্রেডিটেশন গ্রহণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুর রব বলেন, ‘আইইউবিএটি শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যার প্রতিফলন আমরা ২০২৫ সালের কিউএস র‍্যাংকিংয়ে দেখেছি। সেখানে ১৪০১+ অবস্থানে থেকে বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আমরা পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছি। তবে আমরা এখানেই থামছি না; আমাদের লক্ষ্য এখন আরো বড়। বিগত বছরে ৬০০-এর বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে আমরা এ বছর ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’ র‍্যাংকিংয়ের জন্য আবেদন করছি। পাশাপাশি এশিয়া র‍্যাংকিং, গ্রিন মেট্রিক্স এবং ডব্লিউইউআরআইয়ের (WURI) মতো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও আমাদের অবস্থান সুদৃঢ়। প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রেও আমরা এগিয়ে আছি—ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামগুলোর জন্য আইইবি (IEB) এবং বিএইটিইর (BAETE) অ্যাক্রেডিটেশন বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং বিবিএ ও এমবিএ প্রোগ্রামের জন্য অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলে রিপোর্ট জমা দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতের কথা ভাবলে আমরা কারিকুলাম আধুনিকায়ন ও ইন্ডাস্ট্রি লিংকেজের ওপর সর্বাধিক জোর দিচ্ছি। শিগগিরই আমরা একটি আমেরিকান ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় ন্যানো-টেকনোলজি সেন্টার ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক একটি বিশেষায়িত প্রোগ্রাম চালু করতে যাচ্ছি। আমাদের চূড়ান্ত ভিশন হলো পাবলিক ও প্রাইভেট মিলিয়ে বাংলাদেশের শীর্ষ পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা।’

আরও