চার বছর পর পর ফিরে আসা সেই বৈশ্বিক উচ্ছ্বাসকে নিজেদের ক্যাম্পাসে ধারণ করতে ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য এক উৎসবের রঙে মেতে উঠেছিল ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডিভিশন অব স্টুডেন্টস অ্যাক্টিভিটিজ’-এর উদ্যোগে গত ১৬ ও ১৭ জুন দুইদিনব্যাপী ক্যাম্পাসজুড়ে সাড়ম্বরে উদযাপিত হয় ‘জার্সি ডে’।
এ দুইদিন আইইউবি ক্যাম্পাস যেন রূপ নিয়েছিল এক টুকরো মিনি বিশ্বকাপ আসরে। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা—সবাই নিজেদের প্রিয় দেশের জার্সি গায়ে জড়িয়ে ক্যাম্পাসে আসেন। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, স্পেন, ফ্রান্স কিংবা ইংল্যান্ডের মতো পরাশক্তিদের রঙিন জার্সির ছটায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়।
এ উৎসবকে আরো বেশি প্রাণবন্ত ও ছন্দময় করে তোলে ‘আইইউবি ড্যান্স ক্লাব’। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার কোর্টে আয়োজিত এক জমকালো ‘ফ্ল্যাশমব’-এ অংশ নেন বিভিন্ন দেশের জার্সি পরিহিত একঝাঁক শিক্ষার্থী। ফিফা বিশ্বকাপের জনপ্রিয় থিম সংয়ের তালে তালে তাদের নাচ ও গান পুরো ক্যাম্পাসে এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। এর সঙ্গে সুরের নতুন মাত্রা যোগ করে ‘আইইউবি মিউজিক ক্লাব’। বিশ্বকাপকে বরণ করে নিতে থিম সংয়ের আদলে তৈরি তাদের একটি বিশেষ মিউজিক ভিডিও ক্যাম্পাসের সবার নজর কেড়েছে।
বিশ্বকাপের এ উন্মাদনা শুধু জার্সি পরা কিংবা নাচ-গানেই সীমাবদ্ধ নেই। টুর্নামেন্টের মূল আমেজ ফুটিয়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসের বড় পর্দায় বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচারের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যাতে শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে বসে গ্যালারির আবহ উপভোগ করতে পারেন। পাশাপাশি মাঠের আসল উত্তাপ ছড়াতে ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপের আদলে ‘ইন্ট্রা ইউনিভার্সিটি ফুটবল টুর্নামেন্ট’। এবারের মূল বিশ্বকাপের ফরম্যাটকে অনুসরণ করে এ টুর্নামেন্টে মোট ৪৮টি দেশের নামে ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে। বর্তমানে আইইউবির সেন্টার কোর্টে পা রাখলেই মনে হয় সত্যিকারের কোনো বিশ্বকাপ ভেন্যু; চারদিকে জার্সির রঙের মেলা, গ্যালারি থেকে ভেসে আসা দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালির আওয়াজ, আর মাঠের ভেতরের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ বলেন, ‘পড়াশোনার একঘেয়েমি কাটাতে বিশ্বকাপ যেন একটু স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশে সবকিছুই যেন বদলে যাচ্ছে। ক্লাসরুম, বন্ধুদের আড্ডা কিংবা বাসায় ফিরে পারিবারিক আবহ সব জায়গাই শুধু বিশ্বকাপের উন্মাদনা। সবাই পছন্দের জার্সি পরে ঘুরছে, দেখতে ভালোই লাগছে।’