বিশ্ববিদ্যালয়টির কালচারাল ক্লাবের উদ্যোগে পুরো ক্যাম্পাস রূপান্তরিত হয়েছিল এক আন্তর্জাতিক উৎসবের আঙিনায়। এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ মাঠে নেমেছে। সেই বৈশ্বিক আনন্দের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণে। বিভিন্ন দেশের পতাকা, ফুটবল-থিমের সাজসজ্জায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছিল এক টুকরো পৃথিবীতে।
শুধু সাজসজ্জায় থেমে থাকেনি ক্লাব। বড় পর্দায় একসঙ্গে ম্যাচ দেখার আয়োজনে শত শত শিক্ষার্থী একত্রিত হয়েছে ভিন্ন বিভাগ থেকে। কে আর্জেন্টিনার সমর্থক, কে ব্রাজিলের—সেই বিভাজন সাময়িক, কিন্তু সেই আড্ডা, সেই উচ্ছ্বাস, সেই সম্মিলন স্থায়ী ছাপ রেখে যায় সম্পর্কে। এ আবেগকে আরো জমিয়ে দিয়েছিল একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই নেমে পড়েছেন মাঠে। দর্শকের গ্যালারিতে তখন উত্তাপ, মাঠে খেলোয়াড়সুলভ ভদ্রতা—এ দুইয়ের মিলনেই তৈরি হয়েছে এক অনন্য স্মৃতি।
এ আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু ফুটবলের প্রতি তাদের ভালোবাসাই প্রকাশ করেনি, বরং নেতৃত্ব, দলগত কাজ, যোগাযোগ দক্ষতা, সহযোগিতা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং সমস্যা সমাধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ সফট স্কিলও প্রদর্শন করেছে। খেলাধুলা যে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে পারে, এ উদ্যোগ তারই একটি বাস্তব উদাহরণ।
ইউআইইউ কালচারাল ক্লাব সম্প্রতি তাদের নতুন প্রচারচিত্র প্রকাশ করেছে। প্রচারচিত্রটিতে এসব আয়োজনের বিভিন্ন আকর্ষণীয় মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, খেলার প্রতি আবেগ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবের আমেজকে নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্লাবের চলমান কার্যক্রম, সৃজনশীল উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়েও ধারণা দেয়া হয়েছে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে নির্মিত এ প্রচারচিত্রটি এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ক্লাবের সভাপতি ওহিদুর রহমান বলেন, ‘গান, নৃত্যের পাশাপাশি খেলাধুলার এ আয়োজন বলে দেয় যে ইউআইইউ কালচারাল ক্লাব শুধু মঞ্চের শিল্পচর্চায় সীমাবদ্ধ নয়। তারা বিশ্বাস করে, সংস্কৃতি মানে কেবল পারফরম্যান্স নয়, মানুষকে কাছে আনার যেকোনো আয়োজনই সংস্কৃতির অংশ।’