লিংকডইন থেকে প্রথম চাকরি

ক্যারিয়ারের দুটি চাকরির সুযোগ এসেছে লিংকডইনে

মো. আরিফুল ইসলাম

সিনিয়র এক্সিকিউটিভ, করপোরেট সেলস, ট্রানশন হোল্ডিংস কো. লিমিটেড (ইজি জবস)

বাংলাদেশের বহু চাকরিপ্রার্থীর একটি সাধারণ অভিযোগ—লিংকডইন থেকে তো কখনো চাকরি পাইনি। ফলে অনেকেই এ প্লাটফর্মটিকে অকার্যকর মনে করেন।

তবে আমার মতে, সমস্যাটা প্লাটফর্মে নয়; বরং আমরা অনেকেই এটি সঠিক ও কার্যকরী উপায়ে ব্যবহার করতে পারি না।

প্রথমেই একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন—লিংকডইন কোনো প্রচলিত জব পোর্টাল নয়। এটি পেশাজীবীদের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা পেশাদারদের ভার্চুয়াল আড্ডাখানা। এখানে মানুষ শুধু চাকরির খোঁজে আসে না; বরং নিজেদের কাজ, অভিজ্ঞতা, চিন্তাভাবনা ও দক্ষতা তুলে ধরে। নিয়োগকর্তা, রিক্রুটার ও বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা এখানে নিয়মিত সক্রিয় থাকেন। তাই এ প্লাটফর্মে নিজের উপস্থিতি বজায় রাখার অর্থই হলো নতুন সুযোগের কাছাকাছি থাকা।

আমার নিজের ক্যারিয়ারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যই এসেছে লিংকডইনে। প্রথম চাকরির ক্ষেত্রে আবেদন করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রিক্রুটারকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও মার্জিত ভাষায় নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে মেসেজ পাঠাই। উদ্দেশ্য চাকরি চাওয়া ছিল না, বরং নিজের পেশাদার আগ্রহ ফুটিয়ে তোলা। এর কিছুদিন পর তিনি আমাকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকেন এবং প্রক্রিয়া শেষে আমি চাকরিটি পাই।

পরবর্তী সময়ে নতুন সুযোগের সন্ধানে যখন আমি ‘ওপেন টু ওয়ার্ক’ পোস্ট শেয়ার করি, সেখানে আমার অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও পছন্দের পদের কথা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছিলাম। কয়েকদিনের মধ্যেই একজন রিক্রুটার নিজে থেকে যোগাযোগ করেন এবং সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে বর্তমানে আমি যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, সেখানে যোগ দেয়ার সুযোগ পাই।

এ অভিজ্ঞতা থেকে আমি একটি বিষয় অনুধাবন করেছি—লিংকডইন সরাসরি কাউকে চাকরি দেয় না, কিন্তু চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়। এর জন্য কিছু নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় লিংকডইনে সক্রিয় থাকা। পছন্দের ইন্ডাস্ট্রির রিক্রুটার ও পেশাজীবীদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা। শুধু কানেকশন না বাড়িয়ে তাদের পোস্ট পড়ে ভেবেচিন্তে মতামত দেয়া। সপ্তাহে অন্তত একটি মানসম্মত পোস্ট শেয়ার করা এবং ছাত্রজীবনের প্রজেক্ট, প্রতিযোগিতা, স্বেচ্ছাসেবী কাজ বা সার্টিফিকেটগুলো প্রোফাইলে সুন্দরভাবে গুছিয়ে রাখা। চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখলে প্রয়োজনবোধে বিনয়ের সঙ্গে নিজের আগ্রহ জানানো।

অনেকেই চাকরির প্রয়োজন হওয়ার পর লিংকডইন ব্যবহার শুরু করেন। তবে আমার পরামর্শ হলো প্রয়োজন হওয়ার অনেক আগেই নিজের পেশাদার পরিচয় তৈরি করা শুরু করুন।

আরও