সাক্ষাৎকার

মেরিন স্পেশালিস্ট ও ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কিত বিষয়গুলোয় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে

অধ্যাপক ড. মো. জসিম উদ্দিন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মেরিন ফিশারিজ সায়েন্স বিভাগের প্রধান।

সম্প্রতি তিনি এ বিভাগে পড়াশোনা, ক্যারিয়ার সম্ভাবনা, চাকরির বাজার, গবেষণা ও বিদেশে উচ্চ শিক্ষার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাকৃবি প্রতিনিধি তাহমিনা সোনিয়া

মেরিন ফিশারিজ সায়েন্স বিভাগের বর্তমান কারিকুলাম কীভাবে সাজানো হয়েছে? এ বিভাগে কী কী পড়ানো হয়?

মেরিন ফিশারিজ সায়েন্স বাকৃবির সবচেয়ে কনিষ্ঠ বিভাগ। ২০১৮ সালে শুরু হলেও এটি ২০২২ সাল থেকে পাঠদান করছে। এখানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যন্ত পাঠদান করানো হয়। স্নাতক পর্যায়ে এখানে আবশ্যিক ও ঐচ্ছিকসহ প্রায় সব ধরনের কোর্স রয়েছে। এখানে চারটি তাত্ত্বিক ও তিনটি ব্যবহারিক কোর্স রয়েছে যেগুলো আবশ্যিক। ঐচ্ছিক কোর্স সাতটি মিলিয়ে মোট ১৪টি কোর্স চলমান রয়েছে, এ বিভাগে ওশানোগ্রাফি, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট, বায়োসিকিউরিটি এসব সম্পর্কে পড়ানো হয়।

পড়াশোনা শেষে শিক্ষার্থীদের জন্য দেশে-বিদেশে ক্যারিয়ারের সুযোগ কোথায় এবং কোন কোন সেক্টরে তারা সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময়?

আমাদের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ অনেক পুরনো। কিন্তু এখানে মেরিন ফিশারিজ কোর্সের ঘাটতি ছিল। বর্তমানে যেহেতু মেরিন ফিশারিজ সায়েন্সের কোর্সগুলো পাঠদান করানো হচ্ছে, আমি মনে করি আমাদের দেশের চাকরির ক্ষেত্রে অথবা বিদেশে উচ্চ শিক্ষা বা গবেষণার ক্ষেত্রে তারা আরো এগিয়ে যাবে। এখানে মেরিন ফিশারিজ আমাদের মোট মৎস্য উৎপাদনের মাত্র ১২ শতাংশের মতো অবদান রাখে। মেরিন সি উইডসের মতো ফিশারিজের রিসোর্সগুলো বৃহৎ পরিসরে পাঠদান করানো হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষার্থীরা দেশে উৎপাদন প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি বহির্বিশ্বেও প্রভাব বিস্তার করবে। মেরিন এনভায়রনমেন্ট, মেরিন বায়োলজি, মেরিন ফার্মিং এসবে আগে কাজ কম ছিল। মেরিন স্পেশালিস্ট, পলিসি বা মেরিন নিয়ে যেকোনো বায়োলজিক্যাল গবেষণা মেরিন একক রিসোর্স এক্সপ্লোটেশন এবং ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলে আমি মনে করি।

বর্তমানে মৎস্য ও সামুদ্রিক সম্পদ খাতে দেশের চাকরির বাজারের অবস্থা কেমন এবং এ বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের চাহিদা কতটা রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

দেশে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা বর্তমানে ব্যাপক। বিভিন্ন বিশ্বিবদ্যালয় থেকে লাখ লাখ গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছে। প্রায় ১৪-১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিশারিজের গ্র্যাজুয়েট বের হয়। সেক্ষেত্রে আমাদের একটি বিশেষত্ব রয়েছে যে এখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের মেধা ও দক্ষতা সবকিছু মিলিয়ে আমাদের সুযোগ একটু বেশি রয়েছে। সেই সুযোগ ও সামর্থ্যগুলো যদি আমরা কাজে লাগাতে পারি, সেটা আমাদের জন্য বিরাট সম্ভাবনা। কারণ দেশে ও বিদেশে এ সেক্টরে অনেক কর্মক্ষেত্রের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বহির্বিশ্বে। যেহেতু আগে এ কোর্সগুলো ছিল না এবং মাত্র কিছুদিন হলো যুক্ত হয়েছে, সেহেতু আমাদের ফিশারিজ গ্র্যাজুয়েটরা বর্তমানে আগের তুলনায় অনেক দক্ষ।

বিভাগে বর্তমানে কী কী গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়?

আমাদের রিসার্চ প্রজেক্ট খুব সীমিত। বর্তমানে সুন্দরবনের ওপর একটা প্রকল্প চলমান আছে। গবেষণায় পর্যাপ্ত অর্থের ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া দূরত্ব একটি প্রধান সমস্যা। এসব সমস্যা দূর করতে পারলে গবেষণায় অগ্রগতি আসবে বলে আমার মনে হয়। গবেষণায় স্নাতক পর্যায়ে তেমন সুযোগ নেই। তবে বিভিন্ন শিক্ষাসফরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জ্ঞান প্রদান করা হয়। যার মাধ্যমে তারা ব্যবহারিক জ্ঞান পেয়ে থাকে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে কিছুটা সুযোগ রয়েছে। তবে আমাদের গবেষণা প্রকল্প অনেক সীমিত।

আগামী কয়েক বছরে এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করতে পাঠ্যক্রমে কী ধরনের পরিবর্তন আবশ্যক বলে মনে করেন?

বাংলাদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থিত। এ অবস্থানের একটা অন্যতম কারণ হলো অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন করা। সেই সঙ্গে সারা দেশেও সবাই কাজ করবে। মেরিন ফিশারিজ সায়েন্সে বাকৃবিতে এখানেই অসুবিধা রয়েছে। আমাদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে দূরত্ব। শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করতে আমাদের এ সমস্যাটা আগে দূর করতে হবে। তবেই আমাদের শিক্ষার্থীরা দক্ষ ও যোগ্য হবে। সেক্ষেত্রে আমাদের একটি ‘আউটরিচ স্টেশন’ দরকার। যেখানে গবেষকরা অবস্থান করবেন ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। মূলত গবেষণার যত কাজ আছে, সেগুলো সম্পন্ন করে এখানে ফিরে আসবেন। সেখানে থাকার ব্যবস্থাও থাকবে। এ বিষয়ে আমাদের চেষ্টা চলছে।

আরও