কিন্তু সেই পরিচিত গণ্ডির বাইরে গিয়ে আড্ডার টেবিলেই যদি ডানা মেলে স্বাবলম্বী হওয়ার কোনো অনন্য স্বপ্ন? ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের তিন বন্ধু—তানভীর হাসান তূর্জয়, মেহবুবা আক্তার নাদিয়া ও তাবাসসুম সালসাবিল ইস্পার গল্পটি ঠিক তেমনই। কেবল নিজেদের পকেট খরচের একটা বাড়তি সংস্থান করার ভাবনা থেকে শুরু হয়েছিল যে উদ্যোগ, তা আজ ক্যাম্পাসজুড়ে পরিচিত এক জনপ্রিয় হ্যান্ডমেড জুয়েলারি ব্র্যান্ড—‘কড়িকুঞ্জ’।
প্রায় দেড় বছর আগে নিজেদের জমানো পকেট খরচের মাত্র ৭ হাজার টাকা মূলধন হিসেবে নিয়ে শুরু হয় ‘কড়িকুঞ্জ’-এর পথচলা। শুরুর পথটা মোটেও সহজ ছিল না; একদিকে সীমিত মূলধন আর অভিজ্ঞতার অভাব, অন্যদিকে সিএসই বিভাগের কঠিন পড়াশোনার চাপ। তবে তিন বন্ধুর পারস্পরিক বিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রমের কাছে পরাস্ত হয় সব বাধা। ঢাকার চকবাজার থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে নিজেদের নকশায় তারা তৈরি করতে থাকেন নানা পদের অলংকার। বর্তমানে কড়িকুঞ্জের ঝুলিতে রয়েছে বাহ্যিক ও আকর্ষণীয় চুড়ি, ঝুমকা, পায়েস, ব্রেসলেট, আংটি ও কি-রিং। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সাধ্যের মধ্যে কাস্টমাইজড জুয়েলারিও তৈরি করছেন তারা।
কড়িকুঞ্জের মূল ক্রেতা ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালার কারণে ক্যাম্পাসের ভেতরে স্থায়ী স্টল দেয়ার সুযোগ না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সড়কে নিয়মিত স্টল বসিয়ে সরাসরি শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন নিজেদের পণ্য। এছাড়া সুযোগ পেলেই ক্যাফেটেরিয়া কিংবা বিভিন্ন উৎসবে অংশ নিয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছেন কড়িকুঞ্জের অলংকার। গ্রাহকদের ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততায় অল্প সময়ের মধ্যেই কড়িকুঞ্জ দাঁড়িয়ে গেছে একটি লাভজনক উদ্যোগে। তিন বন্ধুর লক্ষ্য—কড়িকুঞ্জকে একদিন সারা দেশের মানুষের কাছে একটি বিশ্বস্ত ও জনপ্রিয় হ্যান্ডমেড জুয়েলারি ব্র্যান্ড হিসেবে পৌঁছে দেয়া।
তিন উদ্যোক্তার একজন তানভীর হাসান তূর্জয় বলেন, আমাদের এ যাত্রা এখনো অনেক দূর বাকি। আমরা চাই কড়িকুঞ্জ একদিন কেবল ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতেই নয়, বরং সারা দেশের মানুষের কাছে একটি বিশ্বস্ত ও ঐতিহ্যবাহী হ্যান্ডমেড জুয়েলারি ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পাক।