দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সম্মানিত গবেষক ও শিক্ষকমণ্ডলীকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। তাদের নিরলস প্রচেষ্টা ও মানসম্পন্ন গবেষণার জন্যই আজ জাবির এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম হওয়া নিঃসন্দেহে শিক্ষার আন্তর্জাতিক মানের বহিঃপ্রকাশ। বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে এ সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি ও সুনামকে বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে। আগামী দিনে বিশ্বমঞ্চে জাবিকে আরো এগিয়ে নেয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার সার্বিক মানোন্নয়নে নানামুখী পরিকল্পনা রয়েছে। গবেষণা খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি স্কোপাসসহ আন্তর্জাতিক সমাদৃত ও ইনডেক্সড জার্নালে মানসম্পন্ন গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশের জন্য শিক্ষকদের আর্থিক প্রণোদনা ও গবেষণা অনুদান বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে জাবির অর্থায়নে পরিচালিত শিক্ষকদের গবেষণা প্রকল্পে আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি করে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে প্রণোদনার এ ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণ করতে সবার প্রথম একটি সেশনজটমুক্ত আধুনিক একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়নসহ পৃথক আবাসন ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে একটি বিশেষায়িত ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক’ স্থাপন করা হবে। এ ডেস্ক বিদেশী শিক্ষার্থীদের ভর্তি, ভিসা প্রসেসিং সহজীকরণ ও সামাজিক নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশীয় শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষায় বিদেশযাত্রায় সার্বিক সহায়তা দেবে, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়ের পথও সুগম করবে। শিক্ষার্থীদের কেবল তাত্ত্বিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের সরাসরি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন জোরদার করা হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহ্যগতভাবেই পরিবেশবিজ্ঞান, ওয়াইল্ডলাইফ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বায়োটেকনোলজি, প্রত্নতত্ত্ব, জনস্বাস্থ্য, মৌলিক বিজ্ঞান এবং তথ্যপ্রযুক্তির মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রগুলোতে শীর্ষস্থানীয় গবেষণা পরিচালনা করে আসছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে ত্বরান্বিত করে বিশ্বের শীর্ষ সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ আন্তর্জাতিক গবেষণা নিশ্চিত করা এবং ল্যাবরেটরিগুলোর প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।