সিজিপিএ ২.৯৪ নিয়ে ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ

গবেষণায় বদলে যায় ফাহিমের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন

বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে অনেক শিক্ষার্থীর কাছে সিজিপিএ যেন ভবিষ্যতের সাফল্য মাপার একমাত্র মানদণ্ড।

প্রত্যাশার চেয়ে কম ফলাফল এলে অনেকের মধ্যেই জন্ম নেয় হতাশা আর বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ধীরে ধীরে দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে থাকে। তবে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. হাসান শাহরিয়া ফাহিম সে ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন। অনার্সে তার চূড়ান্ত সিজিপিএ ছিল ২.৯৪। তবে গবেষণায় ধারাবাহিক কাজ, আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনা এবং পরিকল্পিত প্রস্তুতির মাধ্যমে তিনি অর্জন করেছেন ইরাসমাস মুন্ডাসের তিনটি মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ।

ফাহিম যবিপ্রবির ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। প্রথম বর্ষে তিনি পেয়েছিলেন ২.৮৬, দ্বিতীয় বর্ষে ৩.১০, তৃতীয় বর্ষে তা নেমে আসে ২.৬৪-এ। এমন ফলাফল নিয়ে অনেকেই যখন নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েন, তখন ফাহিমও একই মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে গেছেন। চারপাশে সহপাঠীদের ভালো ফলাফল দেখে তার মনে হতো বিদেশে স্কলারশিপ নিয়ে পড়ার স্বপ্ন কি আদৌ পূরণ হবে! অনেকেই বলেছিলেন, এমন সিজিপিএ নিয়ে ইরাসমাস মুন্ডাসে সুযোগ পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তবে ফাহিম বিশ্বাস করতেন, একজন শিক্ষার্থীর যোগ্যতা কেবল ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না। সে বিশ্বাসই তার পথ বদলে দেয়।

অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষ থেকে গবেষণার প্রতি তার আগ্রহ বাড়ে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা বিষয়ক সেমিনার ও কর্মসূচি থেকে তিনি বুঝতে পারেন ইরাসমাস মুন্ডাসে আবেদন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু সিজিপিএ নয়। বরং গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা, দক্ষতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আবেদনকারীর সামগ্রিক সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেয়া হয়। এর পর থেকেই তিনি সব মনোযোগ গবেষণামুখী করেন। এ পথচলায় তার পাশে ছিলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক এবং ওই শিক্ষার্থীর সুপারভাইজার দেবাশীষ রায়, তানভির আহমেদ ও আব্দুল্লাহ আল রোমান। গবেষণায় ধারাবাহিক পরিশ্রমের ফলও পান তিনি। ইরাসমাস মুন্ডাসে আবেদন করার সময় তার পাঁচটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি ছিল কিউওয়ান (কিউ১) জার্নালে প্রকাশিত এবং দুটি গবেষণাপত্রেই তিনি ছিলেন প্রধান গবেষক (ফার্স্ট অথর)। পাশাপাশি গবেষণাভিত্তিক এসওপি, আইইএলটিএস প্রস্তুতি এবং গবেষণার অভিজ্ঞতা তার আবেদনকে আরো শক্তিশালী করে।

এ সাফল্যের পথ সহজ ছিল না। আবেদন করার পর দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা ও নানা দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে সময় কেটেছে ফাহিমের। এরপর তিনি ইরাসমাস মুন্ডাসের তিনটি মাস্টার্স প্রোগ্রাম থেকে ভর্তির প্রস্তাব পান। পরবর্তী সময়ে তিনি বায়োফ্যাম প্রোগ্রামটি বেছে নেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ফাহিম বলেন, ‘‌আমি উপকরণবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যেতে এবং ইউরোপের মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক গবেষণা ফেলোশিপ এমএসসিএর মাধ্যমে পিএইচডি সম্পন্ন করতে চাই। দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা করে মানুষের বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে অবদান রাখতে চাই।’

আরও