তবে বিশ্ব র্যাংকিংয়ে আরো এগিয়ে যেতে হলে গবেষণার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক প্রকাশনা বৃদ্ধি, আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের শিক্ষক ও গবেষকদের দক্ষতার কোনো ঘাটতি নেই; মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে গবেষণায় প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় কিউএস র্যাংকড ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশে শিক্ষকদের উৎসাহিত করতে প্রকাশনা সহায়তা হিসেবে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দিচ্ছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও প্রকাশনার সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে আমরা একটি সমন্বিত একাডেমিক ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি। এ পরিকল্পনায় আগামী ৫, ১০ ও ২০ বছরের লক্ষ্য নির্ধারণ করে গবেষণা, উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জনের রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের বিশ্বাস, পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।
গবেষণা অনুদানের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে একটি নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। সাধারণত প্রকল্পের একটি অংশ শুরুতে ছাড় করা হয় এবং অবশিষ্ট অর্থ গবেষণার চূড়ান্ত প্রতিবেদন, হিসাব ও প্রকাশনার শর্ত পূরণের পর প্রদান করা হয়। অনেক সময় আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনার রিভিউ ও সম্পাদনা প্রক্রিয়ায় এক থেকে দেড় বছর বা তারও বেশি সময় লেগে যায়। ফলে কোনো কোনো অর্থবছরে কিছু অর্থ সাময়িকভাবে অব্যয়িত দেখালেও গবেষকরা শর্ত পূরণ করার পর সেই অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় করা হয়। কিছু গবেষণা কেন্দ্রে বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও গবেষণা কার্যক্রম প্রত্যাশিত মাত্রায় না হওয়ার বিষয়টিও আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এরই মধ্যে এ নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে এবং কোথায় প্রশাসনিক বা পদ্ধতিগত সমস্যা রয়েছে তা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, যাতে বরাদ্দকৃত অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া গবেষণা অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মানসম্মত প্রকাশনা নিশ্চিত করতে আমরা আরো জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। ভালো গবেষণা ও আন্তর্জাতিক প্রকাশনা এখন অনুদানের গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর একটি। আমাদের লক্ষ্য শুধু অর্থ বরাদ্দ দেয়া নয়, সেই অর্থের মাধ্যমে বিশ্বমানের গবেষণা সৃষ্টি এবং তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা।
সরকারের ধারাবাহিক সহযোগিতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এবং গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব র্যাংকিংয়ে আরো ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে বলে আমরা আশাবাদী। পাশাপাশি গণমাধ্যম যেসব গঠনমূলক সমালোচনা ও তথ্য তুলে ধরছে, সেগুলোকেও আমরা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারে তা সহায়ক ভূমিকা রাখছে।