আমরা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাটাগরিতে অবশ্যই নাম্বার ওয়ান এবং সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে পুরো দেশে কনসিস্টেন্টলি তৃতীয় অবস্থানে আছি। কিন্তু আমাদের বিজনেস স্কুল ৩৫১-৪০০ ব্যান্ডে, যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুল আমাদের চেয়ে আরো ১০০ ব্যান্ড পরে। আমরা সত্যিকারের অর্থে আমাদের যে কোয়ালিটি দাবি করি, সেটা আসলে মূল্যায়ন করা সম্ভব না—উই আর বিয়ন্ড। কিন্তু সেটা তো আর কিউএস বা অন্যরা এসে দেখে না; দেখলে বুঝতে পারত। তারা সব রিসার্চ ইনডাইরেক্ট ডেটা থেকে পায়। আমরা প্রতি বছর কী করছি না করছি, তারা সেগুলো দেখে এবং সেটা থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে র্যাংকিং হয়। আমরা আমাদের অবস্থান ধরে রাখছি এবং পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য অনেক বেশি কাজ করছি। আমি মনে করি এনএসইউর আরো এগোনো উচিত। আমাদের বিজনেস স্কুল গ্লোবাল র্যাংকিংয়ে আরো ওপরে যাওয়া উচিত এবং এশিয়ান র্যাংকিংয়ে নর্থ সাউথের অবশ্যই ৩০০ রেঞ্জের মধ্যে যাওয়া উচিত। এখন যে অবস্থান হয়েছে, আমরা সেটা নিয়েই কাজ করছি এবং ওপরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছি।
আমাদের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় একদিকে রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি বা তদারকি প্রতিষ্ঠান, আর অন্যদিকে স্কুল-কলেজ থেকে পাস করে আসা নতুন শিক্ষার্থীরা, যারা এ উচ্চশিক্ষার মূল উপাদান। কিন্তু পুরো সিস্টেমে রাষ্ট্রীয়ভাবে মানসম্মত শিক্ষার কোনো জোরদার পদক্ষেপ কি আমরা নিতে পেরেছি? আমরা তো এমন একজন রাজনৈতিক নেতাও পেলাম না যে কোয়ালিটি এডুকেশন নিয়ে একটা ড্রাইভ দেবে। গুণগত শিক্ষা একটা মুভমেন্টের মতো ব্যাপার। পরীক্ষার সময় কতজন গার্ড দিল, কত নকল ধরা পড়ল, কিংবা শিক্ষক নিয়োগ দিলাম আর ভবন তৈরি করলাম—বিষয়টা এমন কোনো নিয়মিত কাজ নয়। কোয়ালিটি ইনিশিয়েটিভ সম্পূর্ণ আলাদা একটা বিষয়, যা আমরা সিস্টেমেটিক্যালি করছি না। সুতরাং আমরা র্যাংকিংয়ে এ রকম অবস্থায় থাকব এবং থাকছি। এরই ভেতরে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। নর্থ সাউথ এগিয়ে যাচ্ছে, অন্যরাও এগোচ্ছে, এগোবে। অল্প অল্প করে আমাদেরকে হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগোতে হবে।
আজ পর্যন্ত আমরা কয়টা জিনিস আবিষ্কার করেছি এ দেশ থেকে, যা বৈশ্বিক বাজারে আছে? আমাদের কয়টা প্যাটেন্ট বা ইনোভেটিভ আইডিয়া গ্লোবালি কোন জায়গায় হিট করেছে? অন্য দেশগুলোর নিজস্ব প্রডাক্ট, সার্ভিস এবং আইপি আছে; তাদের অসংখ্য মানবসম্পদ ওয়ার্ল্ড ইমপ্যাক্ট তৈরি করছে। ইনশা আল্লাহ, বাংলাদেশও ভালো করবে এটা প্রত্যাশা করি।