ছুঁয়ে দেখতে চায় সবুজকে, শুনতে চায় ঝরনার শব্দ, হাঁটতে চায় এমন কোনো পথে, যে পথের প্রতিটি বাঁকে অপেক্ষা করে নতুন কোনো দৃশ্য। সেই টানেই হয়তো পাহাড়ের পথের দিকে ছুটে যাওয়া।
কখনো খাড়া ঢাল বেয়ে ওপরে ওঠা, কখনো পাথুরে পথ ধরে সাবধানে পা ফেলা, আবার কখনো পাহাড়ের গা ঘেঁষে এগিয়ে চলা। ক্লান্তিতে পা ভার হয়ে আসছিল, শরীর চাইছিল একটু বিশ্রাম। তবু থামেননি কেউ। কারণ সামনে অপেক্ষা করছিল নাপিত্তাছড়া ট্রেইলের ঝরনা।
সম্প্রতি এমনই এক প্রকৃতির টানে সাড়া দিয়ে সীতাকুণ্ডের নাপিত্তাছড়া ট্রেইলে ছুটে যান চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) অ্যাডভেঞ্চার সোসাইটির ৫১ সদস্য। দিনভর এ অভিযানে তাদের সঙ্গী ছিল পাহাড়ি পথ, সবুজের নৈঃশব্দ্য, সহযাত্রীদের উচ্ছ্বাস আর শেষ গন্তব্যে অপেক্ষা করে থাকা ঝরনার মুগ্ধতা। শহরের কোলাহল পেরিয়ে পথ এগোয় সীতাকুণ্ডের দিকে। সঙ্গে চলতে থাকে গল্প, হাসি-আড্ডা আর সামনে থাকা অভিযানের উত্তেজনা। সকাল সাড়ে ৯টায় বাস থামে সীতাকুণ্ডে। এরপর শুরু হয় দিনের আসল পরীক্ষা, ট্রেইল ধরে হাঁটা। নাপিত্তাছড়ার পথ সমতলের মতো সহজ নয়। পাথুরে, অসমতল ও কোথাও কোথাও বেশ খাড়া পথ ধরে এগোতে হয়। শুরুতে শরীরে উদ্যম থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ক্লান্তি। ভারী হয়ে আসে পা, ঘামে ভিজে যায় শরীর। কোথাও একটু থেমে নেয়া হয় বিশ্রাম, কোথাও আবার একে অন্যকে হাত বাড়িয়ে সাহায্য করে এগিয়ে যান সবাই। তবে এর মধ্যেও ছিল এক অন্য রকম আনন্দ। পাহাড়ের গা ঘেঁষে এগিয়ে যেতে যেতে চারপাশের সবুজ আরো ঘন হয়ে আসে। শহরের পরিচিত শব্দগুলো হারিয়ে যায় পাখির ডাক, পাতার মর্মর আর দূর থেকে ভেসে আসা পানির শব্দে। হাঁটার ক্লান্তির মধ্যেও প্রকৃতির এই নীরব সঙ্গ যেন বারবার নতুন করে পথচলার শক্তি জোগায়। একসময় সেই পানির শব্দ আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বোঝা যায়, গন্তব্য আর খুব বেশি দূরে নয়। অবশেষে ঝরনার দেখা মিলল। দীর্ঘ ট্র্যাকিংয়ের পর যখন চোখের সামনে ঝরনা এসে ধরা দেয়, তখন যেন মুহূর্তেই বদলে যায় সবকিছু। এতক্ষণ যে পাথুরে পথ কেবল ক্লান্ত করেছে, সেই পথটিই তখন মনে হয় স্বস্তির। পাহাড়ের বুক বেয়ে নেমে আসা স্বচ্ছ জলধারা, চারপাশের সবুজ আর ঝরনার অবিরাম শব্দে তৈরি হয় অন্য রকম এক পরিবেশ। কেউ ছুটে যান ঝরনার কাছে, কেউ পাথরের ওপর বিশ্রামে। কেউ আবার ক্যামেরায় ধারণে ব্যস্ত মুহূর্তগুলো।