এ বিশ্বাস থেকেই ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) বিজনেস স্কুল সম্প্রতি কক্সবাজারে আয়োজন করে একটি শিক্ষা সফর। শিক্ষার্থীদের জন্য এ সফর ছিল নিছক ভ্রমণ নয়—বরং ব্যবসা, নেতৃত্ব, দলগত কাজ আর বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় পর্যটন অর্থনীতিকে কাছ থেকে চেনার এক সুযোগ।
শ্রেণীকক্ষে মার্কেটিং, ম্যানেজমেন্ট, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন কিংবা কাস্টমার সার্ভিসের ধারণা শিক্ষার্থীরা বইয়ে পড়েন। কক্সবাজার সফর সেই ধারণাগুলোকে বাস্তবে রূপ নিতে দেখার সুযোগ করে দেয়। হোটেল, রেস্তোরাঁ, স্থানীয় বাজার আর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারেন—একটি ব্যবসা সফল হওয়ার পেছনে শুধু পণ্য বা সেবা নয়, গ্রাহকের চাহিদা বোঝা, বাজার বিশ্লেষণ, মূল্য নির্ধারণ, প্রচারণা আর সেবার মান—সবকিছুই সমান গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে ব্যবসায় শিক্ষার সম্পর্কটাও ছিল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। একটি পর্যটন কেন্দ্রকে ঘিরে কীভাবে পরিবহন, আবাসন, খাদ্য, বিনোদন আর স্থানীয় পণ্যের একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক বলয় গড়ে ওঠে, তা সরাসরি দেখার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা উপলব্ধি করেন, পর্যটন কেবল বিনোদন নয়, বরং কর্মসংস্থান আর স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার একটি বড় মাধ্যম।
স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য, হস্তশিল্প, সামুদ্রিক সম্পদনির্ভর ব্যবসা আর ক্ষুদ্র উদ্যোগের কার্যক্রম দেখে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারেন—সীমিত সম্পদ ও স্থানীয় চাহিদাকে কাজে লাগিয়েও উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে এসব ব্যবসার সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোও তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বর্তমান সময়ে ব্যবসায় প্রযুক্তি ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে, আর পর্যটন শিল্পও এর ব্যতিক্রম নয়। একজন পর্যটক কোথায় যাবেন, কোথায় থাকবেন বা কী সেবা নেবেন—এসব সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন রিভিউ আর ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ভূমিকা এখন সবচেয়ে বেশি। কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসা পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষার্থীরা এ আধুনিক বাস্তবতা সম্পর্কেও একটা স্পষ্ট ধারণা পান।
এ সফর শুধু ব্যবসা পর্যবেক্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কক্সবাজারের প্রকৃতি, সমুদ্র আর স্থানীয় জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত হয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশকে জানার আগ্রহও বেড়েছে। পাশাপাশি পর্যটন সম্পদের সুরক্ষা আর পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থাপনার গুরুত্বও শিক্ষার্থীরা নতুনভাবে উপলব্ধি করেছেন।
আইইউবিএটি বিজনেস স্কুলের শিক্ষকদের মতে, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে শুধু একাডেমিক ফলাফল যথেষ্ট নয়। কলেজ অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ডিন অধ্যাপক ড. মোজাফফর আলম চৌধুরী জানান, প্রয়োজন যোগাযোগ দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, নেতৃত্ব, সৃজনশীল চিন্তা আর বাস্তব পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা—এসব দক্ষতা অর্জনের একটি কার্যকর মাধ্যম হলো শিক্ষা সফর। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আইইউবিএটি বাস্তবমুখী শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। বিজনেস স্কুলের এ কক্সবাজার সফর সেই ধারাবাহিকতারই একটি উদাহরণ।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, এ সফরের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো চিন্তার পরিধি বিস্তৃত হওয়া। বইয়ের পাতায় থাকা কোনো ব্যবসায়িক ধারণা প্রায়ই বিমূর্ত মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে সেই ধারণার প্রয়োগ চোখের সামনে দেখলে তা বোঝা সহজ হয়ে যায়। বাজার, গ্রাহক, সেবা আর উদ্যোক্তা কার্যক্রমকে আরো বাস্তবভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ হয়েছে এ সফরে।