অধস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য বদলি ও পদায়ন নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ আলাদা হওয়ার ১৭ বছর পর এ নীতিমালা প্রণয়ন হলো। নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো বিচারক একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি থাকতে পারবেন না। এছাড়া একজন বিচারক চাকরিজীবনে প্রেষণে থাকতে পারবেন সর্বোচ্চ তিনবার।
এ নীতিমালা সম্পর্কে মতামত চেয়ে সব জেলা ও দায়রা জজ এবং সমপর্যায়ের বিচারকদের কাছে গতকাল চিঠি পাঠানো হয়েছে। ৭ নভেম্বরের মধ্যে তাদের মতামত পাঠাতে হবে।
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি, নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা বিধান ও চাকরির অন্যান্য শর্তাবলি) বিধিমালা, ২০০৭ অধিক কার্যকর করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে এ খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হয়। এরপর ১৭ বছরেও অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত কোনো নীতিমালা তৈরি হয়নি। ফলে সরকারের স্বার্থ ও খেয়ালখুশিমতো বিচারকদের বদলি বা পদায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন জানায়, ২৫তম প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ গত ২১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনের ইনার গার্ডেনে দেশের অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশে অভিভাষণ দেন। সেখানে তিনি দেশের বিচার বিভাগের জন্য একটি রোডম্যাপ তুলে ধরেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি ও পদায়ন নীতিমালা, ২০২৪-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।
খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকায় বিচারকের কর্মকাল ছয় বছরের বেশি হবে না। ঢাকায় কোনো পদে তিন বছর চাকরি করলে তাকে অবশ্যই রাজধানীর বাইরে পদায়ন করতে হবে। যে আদালতে পরিবারের কোনো (স্বামী, স্ত্রী, বাবা, মা, শ্বশুর, শাশুড়ি, ভাই, বোন, নানা, দাদা) আইনজীবী আছেন, সে আদালতে বদলি করা যাবে না। আবার যেখানে বিচারক ১০ শতাংশ বা তার বেশি জমি কিনেছেন, সেই জেলায় বদলি করা যাবে না। স্বামী-স্ত্রী কোনো স্থানে চাকরিরত থাকলে একই বা নিকটবর্তী কর্মস্থলে বদলির অগ্রাধিকার পাবেন। এছাড়া বদলির ক্ষেত্রে ফিটলিস্ট অনুসরণ করা এবং নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে বদলির কার্যক্রম সম্পন্ন করার কথাও খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে।