বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আরো কার্যকর, দক্ষ ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে চারটি খাতে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হবে। এক্ষেত্রে বাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ, চা শিল্পের পুনরুজ্জীবন, এলডিসি-পরবর্তী বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দফতর-সংস্থার কার্যক্রম পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দেশের অনেক সংবেদনশীল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো গড়ে ওঠেনি। জনগণের স্বার্থে বছরজুড়ে এসব পণ্যের বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে একটি টেকসই ও কার্যকর মূল্য-স্থিতিশীলতা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের ঐতিহ্যবাহী চা শিল্প বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। একসময় রফতানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এ শিল্পকে পুনরায় শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের অংশীজনদের সমন্বয়ে চা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করা হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় একটি সফল ও মসৃণ পদার্পন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ), ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) ও বিনিয়োগ চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ জোরদার করা হবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমানে প্রায় ৩০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এমন একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে কোনো মৌসুমে বা বিশেষ পরিস্থিতিতে পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে জনগণ ভোগান্তিতে না পড়ে।
দেশের ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এফবিসিসিআইকে একটি আধুনিক রিসোর্স সেন্টারে রূপান্তর করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে তুরস্ক, মালয়েশিয়া ও ভারতের মডেল পর্যালোচনা করে উপযোগী কাঠামো গ্রহণ করা হবে, যাতে বাণিজ্য, বাজার ও বিভিন্ন খাতভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে সরকার ও বেসরকারি খাতের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার হিসেবে সংগঠনটি গড়ে ওঠে।
তিনি বলেন, মন্ত্রী বা সচিবের পদ স্থায়ী নয়, কিন্তু প্রতিষ্ঠান স্থায়ী। তাই প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব ) মো. আব্দুর রহিম খান সভা পরিচালনা করেন। এতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও তার আওতাধীন দফতর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।