ডেঙ্গু ও হাম উপসর্গে আরো ৭ জনের মৃত্যু

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৪৮৪ জন। একই সময়ে ৬১ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে ১ হাজার ২৮২ জনের শরীরে।

দেশে ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে দুজন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল প্রকাশিত পৃথক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৪৮৪ জন। একই সময়ে ৬১ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে ১ হাজার ২৮২ জনের শরীরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছে তাদের মধ্যে ঢাকায় চারজন ও রংপুর বিভাগে একজন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ১৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৮ হাজার ৪০০ জন।

আর ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯২, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৯০, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২০৭, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২৭, খুলনা বিভাগে ২৫২, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৪, রাজশাহী বিভাগে ১০২, রংপুর বিভাগে ৩৫ ও সিলেট বিভাগে চারজন।

চলতি বছর রাজধানীর পাশাপাশি ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলাতেও আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। ফলে ডেঙ্গু এখন শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক সমস্যা নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও এর বিস্তার ঘটছে। আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে দেশে হামের সংক্রমণও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগে দুজন মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণ হারিয়েছে ১ হাজার ৪৬ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০০ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪৬ জন মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮০। এ সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ২০ হাজার ৩৪৩ জন। এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬০২ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৪০ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করলেই হবে না। বরং বাসাবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ, পানি জমতে পারে এমন পাত্র পরিষ্কার রাখা এবং এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসের কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে হামের ক্ষেত্রে শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত নজরদারি ও রোগী শনাক্তকরণ কার্যক্রমের পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুই রোগের সংক্রমণ একসঙ্গে চলতে থাকায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ, চিকিৎসা ব্যয় এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি সবই বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ এবং হামের টিকাদান কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও