সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার করে ভবিষ্যতে কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে সৌদি আরব। সৌদি আরবে বসবাস ও কর্মরত লাখ লাখ বাংলাদেশী দুই দেশের জনগণের সম্পর্ককে আরো গভীর করেছে।’ প্রবাসী বাংলাদেশীদের সহযোগিতা ও যত্ন নেয়ার জন্য সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
গতকাল রাজধানীর হোটেল শেরাটনে সৌদি আরবের ৯৬তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সৌদি আরবের জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশটির সরকার ও জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। ধর্মীয় বন্ধন, ঐতিহাসিক সম্পর্ক, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। সময়ের সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি, অবকাঠামো, শিক্ষা, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ সহযোগিতা বিস্তৃত হয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘সৌদি আরবকে মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে মর্যাদা দেয় বাংলাদেশ। জাতিসংঘ, ওআইসিসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় প্লাটফর্মে দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। আঞ্চলিক শান্তি, সংঘাত প্রশমন ও বৈশ্বিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।’
ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবের পুঁজি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বাজার, উৎপাদন সক্ষমতা ও দক্ষ জনশক্তির সমন্বয় দুই দেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। জ্বালানি, বন্দর, অবকাঠামো, খাদ্যনিরাপত্তা ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে আরো ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।’
বাংলাদেশকে সৌদি আরবের দেয়া উন্নয়ন সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো কার্যকর ও ফলপ্রসূ অংশীদারত্বে রূপ দিতে বাংলাদেশ সৌদি আরবের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত।’ তিনি সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।