ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, স্বাগত জানালেন রাষ্ট্রপতি

ভুটানের রাজাকে বহনকারী বিশেষ ফ্লাইট সিঙ্গাপুর থেকে ভুটানে যাওয়ার পথে আজ ভোরে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিরতি নেয়

সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরার পথে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করেছেন ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক। আজ সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম।

ভুটানের রাজাকে বহনকারী বিশেষ ফ্লাইট সিঙ্গাপুর থেকে ভুটানে যাওয়ার পথে আজ ভোরে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিরতি নেয়।

বিমানবন্দরে প্রায় এক ঘণ্টার অবস্থানকালে ভিভিআইপি লাউঞ্জে তাকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তারা ‘পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ’ আলোচনা করেন।

এসময় ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রপতি। জবাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানান ভুটানের রাজা।

ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান।

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান। জবাবে ভুটানের রাজাও বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি শুভকামনা জানান।

আলাপকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে গভীর ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান।

তিনি বলেন, ‘ভুটান সব সময় আমাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে আছে। কারণ, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়া বিশ্বের প্রথম দেশ ভুটান।’

এসময় বাংলাদেশের প্রতি ভুটানের বর্তমান রাজার পিতা রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের বিশেষ মমত্ববোধ ও শুভকামনাও রাষ্ট্রপতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে ভুটানের রাজা শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

ভুটানের রাজা তার ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ প্রকল্প সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং এ উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি প্রকল্পটির প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের রূপান্তরমূলক উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ভুটানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।

সৌজন্য সাক্ষাতের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভুটানের রাজাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভুটানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে।

আরও